প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৪১
তাহিরপুরে রুটিন না মেনে পরীক্ষা গ্রহণ
তাহিরপুরের হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত রুটিন অমান্য করে নিজের সিদ্ধান্তে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নতুন প্রশ্নপত্র ছাপানোর যাবতীয় খরচ অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফরিদা আক্তার বিউটিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়। রুটিন অনুযায়ী গত সোমবার সব শ্রেণির ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল এবং বাংলা পরীক্ষা হওয়ার কথা আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)।
তবে হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ নির্ধারিত রুটিনের তোয়াক্কা না করে সোমবারই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পরীক্ষা নিয়ে নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানান, সরকারি রুটিন অমান্য করে আগেভাগে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা পুরো পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তাকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
নিজের ভুল সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ জানান, শিক্ষার্থীরা একদিন অতিরিক্ত ছুটি পাবে—এমন চিন্তা থেকেই তিনি নির্ধারিত রুটিন ছাড়াই আগে পরীক্ষা নিয়েছিলেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সোলেমান মিয়া জানান, রুটিন অমান্য ও বাংলা প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা সৃষ্টির ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন প্রশ্নপত্র ছাপানোর সমস্ত খরচ তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফরিদা আক্তার বিউটিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন