‘জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক বাড়ানো প্রয়োজন’

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১২

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে বেড়েছে রোগীর চাপ। একদিনে হাসপাতালে ৯০০—এর বেশি রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে হামজনিত উপসর্গ নিয়ে ১৩৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডায়রিয়া, সর্দি—কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও বেড়েছে। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগীর চাপ এবং চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোগীর হঠাৎ চাপ বৃদ্ধি, হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সরবরাহ এবং সংকট মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর—এর বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় শনিবার যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. সুমন বণিক। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোÑ

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: হঠাৎ করে হাম, সর্দি—জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এত বেড়ে যাওয়ার কারণ কী বলে মনে করছেন?

ডা. সুমন বণিক: এই সময়ে আমাদের হাসপাতালে হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের অন্যান্য রোগ নিয়েও হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগের দিন রোগীর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশু রোগী।

শিশুরা মূলত ডায়রিয়া, সর্দি—কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। বর্তমানে হামজনিত উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১৩৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা কেন বেড়েছে, সেটি জানার চেষ্টা করছি।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: রোগীর চাপ যেভাবে বেড়েছে, পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক? এই সংকট মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী করছে?

সুমন বণিক: হাম রোগী বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শিশু চিকিৎসকের সংকট। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। অথচ প্রায় ৫০০ শিশু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।

এই বিশাল সংখ্যক রোগীর জন্য দুইজন চিকিৎসক যথেষ্ট নন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ১৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চার গুণ রোগী ভর্তি থাকার এই পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সুমন বণিক: আমাদের হাসপাতালটি ২৫০ জন রোগীর জন্য। সেখানে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকলে অবশ্যই চাপ সৃষ্টি হবে। তারপরও সীমিত সামর্থ্য নিয়ে আমরা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। তবে আমরা নিজেরা চিকিৎসক নিয়োগ দিতে পারি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক দিলে রোগীদের আরও ভালোভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শুধু চিকিৎসক নয়, অন্যান্য জনবলেরও সংকট রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আপনাদের জরুরি প্রয়োজন কী?

সুমন: অন্যান্য জনবলেরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে কয়েকজন মেডিকেল অফিসার পাওয়া। অন্তত ৫ থেকে ১০ জন চিকিৎসক দেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওষুধ ও রোগীদের খাবার সরবরাহ নিয়েও সংকটের অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি কী?

সুমন :সরকারি বরাদ্দ আসে ২৫০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী। কিন্তু বর্তমানে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। ফলে সব রোগীকে সমানভাবে ওষুধ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে বর্তমানে বড় ধরনের ওষুধ সংকট নেই। আমরা নতুন করে ওষুধ কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বরাদ্দ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা হবে। আপাতত মজুত থাকা ওষুধ দিয়েই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অতীতে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ ছিল। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ার পর এখন পরিস্থিতি কেমন?

ডা. সুমন বণিক: বর্তমানে দুই—একজন ছাড়া অধিকাংশ চিকিৎসক নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন। আগের চেয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতির বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: হাসপাতালের আয়া ও চতুর্থ শ্রেণির কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

ডা. সুমন বণিক: রোগীর চাপ যতই বাড়–ক, কোনো রোগীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা যাবে নাÑএ বিষয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ না পেয়ে অনেক সময় বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। বিষয়টি কতটা সত্য?

ডা. সুমন বণিক: বিষয়টি পুরোপুরি সেরকম নয়। কিছু রোগের ক্ষেত্রে হাসপাতালের সরবরাহকৃত ওষুধের বাইরে অতিরিক্ত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর দ্রুত সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের ওষুধ লিখে থাকেন।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: চিকিৎসকদের যোগসাজশে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

ডা. সুমন বণিক: এ অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমি একমত নই। তবে হাসপাতালে দালালচক্রের তৎপরতা রয়েছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমরা দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি এবং সময় সময় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ কী হওয়া প্রয়োজন এবং শিশুদের জন্য অভিভাবকদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

সুমন বণিক: বর্তমানে ডায়রিয়া ও হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা—কর্মচারীদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। কোন কোন এলাকা থেকে রোগীরা বেশি আসছেন, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পরে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। বর্তমানে আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তন হচ্ছে। বৃষ্টির পর রোদ এবং তাপমাত্রার ওঠানামায় শিশুদের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত পরিষ্কার করা এবং তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ থাকবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার