প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৮
মনিটরিং বৃদ্ধির আশ্বাস জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা অফিসগুলোর সমস্ত সেবা স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। রবিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সাথে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)—এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সনাকের এক অধিপরামর্শ সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় সনাকের বিভিন্ন প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষণ করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর মনিটরিং বৃদ্ধি, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সনাক—টিআইবি’র ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের কাজের ফলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে ক্লিনার ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় যেকোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা বা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানোর জন্য তিনি সনাক সদস্যদের অনুরোধ করেন।
সভায় সনাকের পক্ষে অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)—এর মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— টিফিন পিরিয়ডের পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া ও নিয়মিত অভিভাবক সভা না হওয়া। বিদ্যালয়ের সময়সূচি ও দৈনিক সমাবেশ সঠিকভাবে না মানা। অপর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ এবং ব্যবহারে শিক্ষকদের অনীহা। শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও ক্লাস চলাকালে স্মার্টফোন ব্যবহার। ক্লাসরুম ও সীমানা প্রাচীরের সংকট এবং কার্যকর তথ্য বোর্ড বা অভিযোগ প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতি।
এসব সমস্যার আলোকে প্রধান অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, উপজেলা পর্যায় থেকে বিদ্যালয়গুলোর পরিদর্শন জোরদার করা হবে। সনাকের চিহ্নিত সমস্যা ও সুপারিশগুলো নিয়ে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক সমন্বয় সভায় আলোচনার জন্য তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি কানিজ সুলতানা বলেন, শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে। তিনি দ্রুততম সময়ে শিক্ষা সংক্রান্ত সকল সেবা প্রদান এবং সনাকের কাজের আওতাধীন ৩টি বিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানান।
টিআইবি’র এরিয়া কো—অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আরিফুর রাহমানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট দীপংকর মোহান্ত, সনাক সহ—সভাপতি সুখেন্দু সেন, সনাক সদস্য প্রফেসর পরিমল কান্তি দে, রুনা শাহীন আরা লেইছ, অ্যাডভোকেট হেলিনা আক্তার, সঞ্চিতা চৌধুরী, রাজু আহমেদ এবং ইয়েস সদস্যবৃন্দ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন