প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৪
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি শুধু ৫০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর বা কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে ভাবলেই হয় না। বরং জীবনের অনেক আগেই গড়ে তোলা দৈনন্দিন অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ঘুম এবং প্রতিদিনের জীবনযাপন—সবকিছুর ক্ষেত্রেই ছোট কিন্তু ধারাবাহিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে সুস্থ থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চিকিৎসকরা এর পেছনে যে সাতটি অভ্যাস পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো—
১. খাবারের পর হাঁটা
খাবার খাওয়ার পরপরই বসে না থেকে ১০ মিনিট হালকা হাঁটা। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর এ অভ্যাস উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পর অল্প সময় হাঁটলেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
২. সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার
সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন চিকিৎসকরা। তারা জানান, সপ্তাহে ৩০টির বেশি ভিন্ন উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়া উচিত। এসব খাবারের বিভিন্ন ধরনের খাদ্যআঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায় এবং অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টির বৈচিত্র্য বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
৩. রাতে দ্রুত রাতের খাবার শেষ করা
ঘুমানোর ঠিক আগে খাবার না খেয়ে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, দেরিতে খাবার খেলে রাতে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। আবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
৪. শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও পায়ের ব্যায়ামকে গুরুত্ব দেওয়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ভর ও হাড়ের শক্তি ধরে রাখতে নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ওজন তোলার ব্যায়াম এবং পায়ের ব্যায়াম করার কথা জানান।
৫. প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ গ্রহণ
প্রতিদিন ৩০ গ্রামের বেশি খাদ্যআঁশ গ্রহণের লক্ষ্য থাকা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ শুধু হজমের জন্য নয়; হৃদ্রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, কোলোরেক্টাল ক্যানসার এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কম রাখার সঙ্গেও বেশি খাদ্যআঁশ গ্রহণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
৬. ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া
প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করার চেষ্টা করা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু কর্মশক্তিই কমে না; রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৭. প্রতিদিন চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি
কফির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকার পেতে তিনি চিনি, মিষ্টি সিরাপ বা অতিরিক্ত ক্রিমার এড়িয়ে ব্ল্যাক কফি পান করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে কফিকে ‘ডেজার্টে’ পরিণত না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে জীবনের শুরু থেকেই ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত এসব অভ্যাস অনুসরণ করাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন