প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪০
সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়নসহ ৬ দাবি
সু.খবর ছবি
সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকর করা এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সকালে শহরের রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে শ্রমিকরা ব্যানার ও লালপতাকাসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান। স্মারকলিপি প্রদান শেষে শ্রমিকরা পুনরায় মিছিল নিয়ে আলফাত স্কয়ারে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হন।
সংগঠনের জেলা সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া এবং হোটেল—রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। এছাড়া সংগঠনের সদস্য লিটন দাস ও জিষু পালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এসময় শ্রমিকরা ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো— অবিলম্বে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারী সেক্টরে সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়ন। শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই প্রদান এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করা। গেজেট ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমে তদারকি বাড়ানো এবং অসাধু কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যবস্থা। ঢাকার স্টার কাবাবের ৪ জন শ্রমিকসহ সারাদেশে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার। রংপুরে নির্মমভাবে নিহত শ্রমিক শাওনের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন মজুরির গেজেট প্রকাশ হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা কাজের নিয়ম থাকলেও মালিকপক্ষ জোরপূর্বক ১২—১৩ ঘণ্টা কাজ করিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। দ্রুততম সময়ে এসব যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া না হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন