প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১২
যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা—দুইটিই এখন জনজীবনের বড় উদ্বেগের বিষয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ চালকদের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়া, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি। এ বিষয়সহ সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, চালকদের দক্ষতা, গাড়ির মালিকদের দায়িত্ব এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন জেলা বাস—মিনিবাস—কোচ—মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ১৮ বছরের কম বয়সী চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধের যে কথা বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হিসেবে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
সুজাউল কবির: আমরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো চালক যেন গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে না উঠে, আমরাও সেটি চাই। অটো ও সিএনজি চালকদের মধ্যে এমন অনেককেই দেখা যায়, যাদের বয়স ৮, ১০, ১২ বা ১৩ বছর। অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়ার বয়সে তারা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসছে। এ ধরনের অদক্ষ ও কম বয়সী চালকদের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শুধু বয়স নয়, লাইসেন্স ও দক্ষতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
সুজাউল কবির: আমাদের অনেক ত্রুটি রয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়গুলো নজরে দিক। আমাদের শ্রমিকদের মধ্যে যারা বাস, মাইক্রোবাস ও কার চালান, তাদের লাইসেন্স রয়েছে। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে লাইসেন্স ছাড়া চালককে গাড়ি চালাতে দেওয়া হয় না।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শহরের যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কথা বলা হয়। চালকদের এ বিষয়ে আপনারা কোনো নির্দেশনা দেন কি?
সুজাউল কবির: যানজট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শহরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে অনেক সময় লেগে যায়। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকাল থেকে শুরু হওয়া যানজট রাত পর্যন্ত চলে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা জরুরি।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?
সুজাউল কবির: পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, আলফাত স্কয়ার ও আদালত এলাকার সামনে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা হয়। বিশেষ করে অটো ও সিএনজি যেখানে—সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। এসব নিয়ন্ত্রণ করা গেলে শহরকেন্দ্রিক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জ—সিলেট সড়কে বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি কিংবা অনভিজ্ঞ চালকের কারণে দুর্ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
সুজাউল কবির: গত কয়েক বছরে সিএনজি ও অটোরিকশার দুর্ঘটনা বেড়েছে। আমার মনে হয়, এর বড় একটি কারণ অদক্ষ চালক। ১২, ১৩ ও ১৫ বছরের ছেলেদের সিএনজি বা অটো চালাতে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের চালকদের কীভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, সেটি প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অদক্ষ বা কম বয়সী চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দিলে মালিক পক্ষেরও কি দায় থাকা উচিত?
সুজাউল কবির: অবশ্যই মালিক পক্ষকে দায় নিতে হবে। একজন মালিক যদি ভালো ও দক্ষ চালকের পরিবর্তে ১৩ বা ১৫ বছরের ছেলের হাতে গাড়ি তুলে দেন, তাহলে এর দায় মালিককেও নিতে হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সড়ক নিরাপদ রাখা ও যানজট কমাতে আপনার পরামর্শ কী?
সুজাউল কবির: সুনামগঞ্জ—সিলেট সড়কের বিভিন্ন জায়গায় যানজট ও ফুটপাত দখলের কারণে যাতায়াতে সময় বেড়েছে। পাগলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু একবার উচ্ছেদ করলে হবে না, যারা আবার দখল করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রশাসন, পুলিশ, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন সমন্বিতভাবে কী উদ্যোগ নিতে পারে?
সুজাউল কবির: মালিক—শ্রমিক ও প্রশাসনকে একসঙ্গে বসতে হবে। আমরা বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের আমাদের সমস্যাগুলো জানিয়েছি। চালকদের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: এই মুহূর্তে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে আপনাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?
সুজাউল কবির: সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্যগণ, জেলা প্রশাসক, মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে একটি বৈঠক করা প্রয়োজন। সেখানে সবাই মিলে দিকনির্দেশনা দিলে এবং তা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন