জীবিকার চাকা ও রাষ্ট্রের দায় ব্যাটারিচালিত রিকশার আড়ালে তরুণদের অপ্রকাশিত গাথা

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৬

ভূমিকা
বাংলাদেশের ছোট—বড় নগর কিংবা গ্রামাঞ্চলের সংযোগ সড়কগুলোতে তাকালে একটি সাধারণ অথচ রূঢ় দৃশ্য কারো চোখ এড়িয়ে যায় না—যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে শক্ত মুঠো ধরে দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক তরুণ মুখ। একসময় যেই কর্মক্ষম প্রাণবন্ত তরুণদের কারখানার অ্যাসেম্বলি লাইন, কৃষির আধুনিক প্রয়োগক্ষেত্র কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী পেশায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তারা আজ স্রেফ দু’মুঠো ভাতের সংস্থান করতে ব্যাটারিচালিত রিকশার হ্যান্ডেলে হাত বাঁধতে বাধ্য হচ্ছে। নাগরিক সমাজের সুশীতল ও আরামদায়ক আলোচনায় এরা প্রায়শই কেবল ‘যানজটের মূল কারণ’ কিংবা ‘অবৈধ যানবাহনের চালক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। তবে এই আপাতসহজ সংজ্ঞায়নের পেছনে যে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে, তার খবর ক’জন রাখে? তরুণদের এই জীবিকা নির্বাচনের পেছনের কঠোর বাস্তবতাকে গভীরভাবে অনুধাবন না করে কেবল ওপরভাসা সমালোচনা করা আমাদের সামাজিক বিচারবোধেরই এক বিরাট ঘাটতি প্রকাশ করে।

 


কর্মসংস্থানের স্থবিরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা
আজ প্রশ্ন ওঠে, দেশের কোটি কোটি উদীয়মান তরুণের জন্য রাষ্ট্র কি উপযুক্ত ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছে? কর্মসংস্থানের বাজারে নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতাই এই প্রশ্নকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বা সুসংগঠিত খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত। উচ্চশিক্ষা কিংবা নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করেও হাজার হাজার তরুণ যখন চাকরির বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরেও একটি সম্মানজনক কাজের সন্ধান পায় না, তখন ‘শোভন কাজ’ (decent work)—এর ধারণাটি তাদের কাছে স্রেফ একটি তাত্ত্বিক বিলাসিতায় পরিণত হয়।
এই প্রাতিষ্ঠানিক খাতের মারাত্মক ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের দুষ্প্রাপ্যতা তরুণ সমাজকে একপ্রকার বাধ্য করেই ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক খাতের দিকে। যোগ্যতা, মেধা এবং শারীরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেবল আহারের সংস্থান ও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর তাগিদে তরুণরা আত্মকর্মসংস্থানের সহজতম পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে। এটি তাদের স্বপ্নের গন্তব্য নয়, বরং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেওয়া এক চরম আত্মরক্ষা কৌশল।

 


কৃষি খাতের সংকট ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিপর্যয়
আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি যেখানে কৃষি, সেখানে কৃষকের অব্যাহত দুর্দশাও এই সংকটের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। প্রখর রোদে পুড়ে, ঝড়—বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে ফসল ফলিয়েও প্রান্তিক কৃষক অধিকাংশ সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি বিপণন ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার কারণে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূলধন তোলাই দুষ্কর হয়ে পড়ে।

 


ফসলের মাঠ যখন লাভের বদলে ঋণের বোঝা উপহার দেয়, তখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে সৃষ্টি হয় এক তীব্র বিপর্যয়। এই ধস তরুণদের ভিটেমাটি ও বাবার আমলের কৃষিকাজ ছেড়ে শহরের দিকে ধাবিত হতে বাধ্য করে। কিংবা স্থানীয় বাজারগুলোতে আত্মকর্মসংস্থান হিসেবে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত পথ খোলা থাকে না। গ্রামীণ আয়ের এই সংকোচন শহরমুখী অভিবাসন এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমের অতিরিক্ত জোগানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

 


সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, পেশাগত অবমূল্যায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা
আমাদের প্রচলিত সামাজিক কাঠামোতে রিকশাচালনার পেশাকে এখনো কাঙ্ক্ষিত শ্রদ্ধা বা মর্যাদার চোখে দেখা হয় না। প্রতিনিয়ত কটূক্তি, ট্রাফিক পুলিশের লাঠির তাড়া আর পথচারীদের অবহেলার মুখোমুখি হতে হয় এই চালকদের। অথচ এই যে লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম শারীরিক ধকল সহ্য করে, রোদ—বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে এই পেশায় যুক্ত হচ্ছে—এটি তাদের কোনো স্বেচ্ছায় নেওয়া বিলাসী সিদ্ধান্ত নয়। এটি স্রেফ বাঁচার তাগিদে নেওয়া এক চূড়ান্ত বাধ্যবাধকতা।

 


তারা যদি সমাজে কোনো সম্মানিত, নিরাপদ এবং নিশ্চিত আয়ের বিকল্প কাজের সুযোগ পেত, তবে নিশ্চিতভাবেই প্রতিদিনের এই মানবেতর পরিস্থিতি ও শারীরিক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে চাইতো না। নাগরিক হিসেবে তাদের এই সামাজিক অবমূল্যায়ন আর অর্থনৈতিক সুরক্ষাহীনতার পেছনে রাষ্ট্রীয় নীতি কাঠামোর দীর্ঘদিনের ব্যর্থতাই প্রধানত দায়ী। রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের প্রাথমিক সামাজিক নিরাপত্তা ও কাজের ন্যূনতম সুরক্ষা দিতে না পারে, তবে সেই নাগরিকরা কীভাবে সম্মানজনক জীবনের প্রত্যাশা করবে?

 


বিদ্যুৎ সংকট ও করপোরেট বৈষম্য
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিদ্যুতসংকটের দায় প্রায়শই খুব সহজে চাপিয়ে দেওয়া হয় এই ইলেকট্রিক বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর। প্রচার করা হয়, এই যানবাহনগুলো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় করে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। শহরের বড় বড় করপোরেট অফিস, শপিংমল কিংবা বিলাসবহুল ভবনে যখন রূপচর্চা ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া হয়, তখন প্রান্তিক মানুষের আয়ের একমাত্র উপায়টিকে ‘বিদ্যুৎ অপচয়ের উৎস’ বানিয়ে বন্ধ করার তোড়জোড় শুরু হয়।
একটি বৈষম্যহীন সমাজে এটি চরম অবিচার। সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার আগে কিংবা বিদ্যুৎ সংকটের দোহাই দিয়ে অটোরিকশা আটকানোর আগে নীতি নির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন—এই চাকার সাথে জড়িয়ে আছে কোটি মানুষের দৈনন্দিন আহার, সন্তানের লেখাপড়া ও জীবনের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

 


অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও অনানুষ্ঠানিক ব্যাকবোন
নাগরিক সমাজ কিংবা সরকারের একাংশ প্রায়শই রিকশাচালকদের কেবল সমস্যার উৎস হিসেবে দেখে, কিন্তু জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের নীরব ও অপরিসীম অবদানকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে। সারাদিন রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে রিকশা চালিয়ে এই শ্রমজীবী মানুষেরা যে আয় করে, তা সরাসরি স্থানীয় বাজারে ব্যয় হয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিন দেশের অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ সঞ্চালিত হয়, যা গ্রামীণ ও শহরতলীর প্রান্তিক অর্থনীতিকে সচল রাখছে।

 


শুধু তাই নয়, এই পেশাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল সহযোগী অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম। এই অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে হাজার হাজার মেকানিক বা ওয়ার্কশপ কর্মীর পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। কত শত গ্যারেজ মালিক, পার্সের দোকানদার, ব্যাটারি রিচার্জিং পয়েন্ট এবং খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রেতা এর ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। এটি কেবল একজন চালকের জীবিকা নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কারিগরের জীবন—জীবিকার জটিল এক অর্থনৈতিক শিকড়।

 


পরিবেশগত বাস্তবতা ও গণপরিবহনের বিকল্প
পরিবেশ দূষণের প্রসঙ্গ উঠলেই অনেক সময় অটোরিকশাকে অভিযুক্ত করা হয়, যা বস্তুত মূল সত্যকে আড়াল করার নামান্তর। প্রকৃতপক্ষে, এই বিদ্যুৎ চালিত অটোরিকশাগুলো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। লক্কড়—ঝক্কড় ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক কিংবা অনিয়ন্ত্রিত কলকারখানার মতো শহরের আকাশ—বাতাস ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাসে দূষিত করার জন্য এরা দায়ী নয়। এরা রাজপথে কোনো বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ছড়ায় না।
উচ্ছেদ যদি করতেই হয়, তবে রাজপথে দাপিয়ে বেড়ানো ওই ফিটনেসবিহীন বিশাল গাড়িগুলোকে উচ্ছেদ করা উচিত। তাছাড়া, দেশের চরম গণপরিবহন সংকটের জায়গায় সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে এই অটোরিকশা। রাষ্ট্র যেখানে জনগণের জন্য পর্যাপ্ত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পাবলিক ট্রানজিট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে এই অটোরিকশাগুলোই প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের যোগাযোগের প্রাথমিক চাহিদা মিটিয়ে চলেছে।

 


কর ব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনা ও মেহনতি মানুষের ভূমিকা


অটোরিকশা চালকদের প্রায়শই রাষ্ট্রের বোঝা মনে করা হয়, অথচ তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে বড় অবদান রেখে চলেছে। এঁরা ব্যাংক ঋণখেলাপী, বিদ্যুৎ বিলখেলাপী, অর্থ পাচারকারী, ঘুষখোর কিংবা চাঁদাবাজের নিয়ন্ত্রক আমলা—মন্ত্রী নয়, যাদের সীমাহীন লুটপাট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির কারণে বাধ্য হয়ে তরুণরা আজ অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরেছে।
এই সাধারণ চালকরা কিন্তু রাষ্ট্রের রাজস্ব ফাঁকি দেয় না। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় চাল—ডাল—তেল থেকে শুরু করে যাবতীয় জিনিসপত্র কেনার সময় তারা পরোক্ষ কর বা ভ্যাট পরিশোধ করে। বেসরকারি পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রায় ষাট লক্ষ মানুষ সরাসরি এই পেশায় জড়িত। রাষ্ট্র কি কখনো ভেবে দেখেছে—এই ষাট লক্ষ মানুষের ঘামঝরা উপার্জনের ওপর ভিত্তি করে উঠে আসা ভ্যাট ও রাজস্ব থেকেই রাষ্ট্রের দারোয়ান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আমলা—মন্ত্রীদের বেতন—ভাতা হয় এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্র সচল থাকে? অথচ নিষ্ঠুর নির্মমতায় রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের কাছে এরাই আজ সবচেয়ে অপাঙ্কতেও ও অবহেলিত।

 


সংকট নিরসনে টেকসই সমাধানের রূপরেখা


একটির দোষ অন্যটির ঘাড়ে না চাপিয়ে রাষ্ট্রকে বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের দিকে হাঁটতে হবে। রাস্তায় অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই সংকট মেটানো সম্ভব নয়। প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ কোনো সুদূরপ্রসারী সমাধান আনে না, বরং সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করে। রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
১.গণনীতিমালা প্রণয়ন: উচ্ছেদ অভিযানের পথ ছেড়ে অটোরিকশার সঠিক নিবন্ধন, চলাচলের নিয়মকানুন এবং নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট গণনীতিমালা তৈরি করতে হবে।
২.বিকল্প লেন ও অবকাঠামো: যানজট এড়াতে প্রধান প্রধান সড়ক পরিহার করে অটোরিকশার জন্য বিকল্প সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে যাত্রী ওঠানামার জন্য প্রতি পয়েন্টে নির্দিষ্ট যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা প্রয়োজন।


৩ প্র্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: উচ্ছেদ না করে চালকদের যথাযথ ট্রাফিক নিয়মকানুনের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
৪.সামাজিক নিরাপত্তা ও রেশনিং ব্যবস্থা: কম আয়ের এই চালক ও তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহের জন্য রেশনিং ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে।
৫.অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের উচ্ছেদ: শ্রমজীবী অটোরিকশা চালকদের উচ্ছেদের পরিবর্তে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎকারী ঋণখেলাপী, বিলখেলাপী, অর্থ পাচারকারী, চাঁদাবাজ এবং এদের প্রশ্রয়দাতা দুর্নীতিবাজদের উচ্ছেদের জন্য জোরালো আওয়াজ তুলতে হবে।


উপসংহার
উৎপাদনশীল ও সম্ভাবনাময় এক তরুণ প্রজন্মকে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। এটি স্রেফ যানজট কিংবা বিদ্যুৎ সংকটের কোনো মামুলি সামাজিক ইস্যু নয়; এটি আমাদের সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক অধিকার ও সঠিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার এক মৌলিক পরীক্ষা। স্রেফ প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের নীতি কোনো কল্যাণকামী রাষ্ট্রের লক্ষণ হতে পারে না।
নাগরিক সমাজেরও উচিত কেবল যানজটের দায় এই খেটে খাওয়া মানুষের ওপর না চাপিয়ে, নিজেদের ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া—আমরা কি এই শ্রমজীবী মানুষকে তাদের প্রাপ্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও কাজের অধিকার দিতে পেরেছি? মেহনতি অটোরিকশা চালকদের উচ্ছেদের পরিবর্তে রাষ্ট্র যদি দেশের আসল লুটেরা, অর্থ পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তবে কেবল সড়কেই নয়—গোটা রাষ্ট্রেই নেমে আসবে সুশাসন, শৃঙ্খলা এবং বাসযোগ্য এক মানবিক পরিবেশ।
লেখক : রাজনৈতিক কর্মী

উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার