কুস্তি খেলায় উৎসব

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৪

শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলা। বুধবার উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া কামলাবাজ গ্রামের মাঠে দাওয়াতি (প্রীতি) কুস্তি খেলার আয়োজন করা হয়। খেলার আয়োজন করেন শিমুলবাঁক ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া কামলাবাজ গ্রামবাসী। ঐতিহ্যবাহী এই খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। 

 


জানা যায়, খেলায় উপজেলার কাঁঠালিয়া কামলাবাজ গ্রামের কুস্তিগীরদের মুখোমুখি হন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টুকেরগাঁও গ্রামের কুস্তিগীরেরা। প্রচণ্ড রৌদ্র উপেক্ষা করে শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো দর্শক মাঠে এসে খেলা উপভোগ করেন। তারা জানান, প্রতিযোগিতাটি কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে ফনার খেলা, দ্বিতীয় ধাপে সানি দাগা এবং চূড়ান্ত পর্বে দাগাদের আকর্ষণীয় কুস্তি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ধাপেই কুস্তিগীরদের নৈপুণ্য ও শক্তিমত্তা দেখতে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ—উদ্দীপনা দেখা যায়। বিকাল ৫টার দিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই খেলা সমতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

 


আয়োজকরা জানান, খেলা শেষে আমন্ত্রিত কুস্তিগীরদের গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে নিয়ে আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করা হয়। খেলোয়ারদের সাথে থাকা লোকজনদের ও অতিথি দর্শকদের বিশেষভাবে সম্মান দেখানো হয়। কুস্তিগীরদের স্থানীয় ভাষায় ‘মাল’ বলে সম্বোধন করা হয়। মালদের আতিথিয়েতায় গ্রামের মধ্যে সম্মিলত অর্থায়নে গরু জবাই করা হয়েছে। তাদেরকে আপ্যায়নের পাশাপাশি নাইওরীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয় গ্রামের ঘরে ঘরে। ফলে গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে একটি উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও আয়োজক ও খেলোয়াড়দের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়।

 


খেলা পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন কাঁঠালিয়া কামলাবাজ গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাসেল মিয়া, গ্রামের সাবেক কুস্তিগীর জাবেদ মাল, খেলায় আমিনাতির (বিচারক) দায়িত্বে ছিলেন চাঁনবাড়ী গ্রামের নেচার আলম, খেশবপুরের মতিয়া ও জগাইরগাঁওয়ের জাহিদ আহমদ। তারা বলেন, একসময় গ্রামবাংলার বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল কুস্তি খেলা। সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। নিয়মিতভাবে এমন আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম গ্রামীণ সংস্কৃতি ও চিরায়ত ঐতিহ্যের সাথে আরও গভীরভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়াও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। 

 


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, আমি এই এলাকায় খেলাটির ব্যাপারে প্রথম শুনলাম। ভালো লাগছে একটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের চর্চা আমার উপজেলায় হচ্ছে। আমি যদি এই খেলাকে রক্ষা করতে কিছুটা ভূমিকা পালন করতে পারি তাহলে অবশ্যই আমার ভালো লাগবে। এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে কি করা যায় সে বিষয় ব্যবস্থা নিবো। তিনি বলেন, যারা কুস্তি খেলার আয়োজন করেন তারা যদি কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন তাহলে তাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা কুস্তি খেলার উন্নয়নে কাজ করবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার