প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৯
আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও জগন্নাথপুরে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ। নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়ে ভোটাদের কাছে গিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। আবার এলাকার সার্বিক উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রম্নতি। প্রতিদিনই মতবিনিয়ম, উঠান বৈঠক, সভা—সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন তারা। এমনকি কেউ কেউ প্রচারের পাশাপাশি করছেন শোডাউনও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন তাদের কর্মী সমর্থকরাও। উপজেলাজুড়ে পাড়া—মহল্লায়, হাট—বাজারে ও গ্রামীণ জনপদের মাঠ—ঘাটে প্রার্থীদের পদচারণায় নির্বাচনের আগেই উৎসবমুখবর হয়ে উঠেছে জনপদ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র—জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জগন্নাথপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজের প্রার্থিতার জানান দিয়ে প্রচার শুরু করেন। নির্বাচন উপলক্ষে অনেকেই প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এলাকাবাসীর সঙ্গে দেখা করে মতবিনিয়ম সভা কিংবা চা চক্রের আয়োজন করে নিজের প্রার্থীতার ঘোষণা দেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক উৎসবে জনসংযোগ শুরু করেন। আবার যারা দেশে ফিরতে পারেনি, তারাও নিয়মিত কর্মী সমর্থক ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন। কেউ কেউ আবার ঘন ঘন প্রবাস থেকে আসা যাওয়া করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে এলাকায় প্রবাসীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।
একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলা। এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে মিরপুর ইউনিয়নের মেয়াদ প্রায় দুইবছর আগে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবাসে পাড়ি জমান। ফলে এসব ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানরা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে শতাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি সম্ভাব্য কাউন্সিলর এবং ইউপি সদস্য পদপ্রার্থীরও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতিকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানানো হয়। চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে, গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর জগন্নাথপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা আরও বেড়েছে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নে সম্ভাব্য শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে সিংহভাগ বিএনপির সমর্থিত। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কেউ কেউ নীরবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে। নির্বাচনী আইনে কোনো আইনি বাধা না থাকলে তারাও শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জগন্নাথপুরের সামাজিক সংগঠন ‘ফেয়ার ফেইস জগন্নাথপুর’ এর মহাসচিব শামীম আহমদ বলেন, এখনও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হয়নি। কিন্তু সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আগেভাগেই মাঠে প্রচারে ঘাম ঝরাচ্ছেন। আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। যাতে জনগণ তাদের কাক্সিক্ষত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্ববায়ক জামাল উদ্দিন আহমদ বলেন, ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আসন্ন নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর অধিকার পুনরুদ্ধার ও জনসেবার দাবি পূরণের লক্ষে আমি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে পুরোদমে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।
সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নেক সম্ভাব্য আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্ববায়ক সৈয়দ মোসাব্বির আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছি। সেই সুবাদে এলাকাবাসীর সুখ—দুঃখে পাশে থাকি। এলাকার সকল শ্রেণিপেশার মানুষ সমর্থন দিয়ে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল খয়ের বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা প্রস্তুত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সামনে রেখে যারা প্রচারণা, জনসংযোগ, মতবিনিময় সভা করছেন, সেটি সামাজিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ। তবে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পর প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন