শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুশাসন

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের যানজট নিরসন ও সড়ক—ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাম্প্রতিক পৌরসভার অভিযান নিয়ে চলছে আলোচনা। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন ও অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শুধু অবৈধ যানবাহন বন্ধ করলেই শহরের যানজট পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয় বলে মনে করেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রত্নাকর দাস জহুর। তার মতে, যানজট নিরসনে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড, রুটভিত্তিক চলাচল, নিয়মিত অভিযান এবং সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের চালকদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। 

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: লাইসেন্সবিহীন যানবাহন বন্ধ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগের সঙ্গে চালকদের জীবিকার বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করা সম্ভব?
রত্নাকর দাস জহুর: যারা বর্তমানে ইজিবাইক বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের অনেকেই আগে অন্য পেশায় ছিলেন। দিন দিন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে তারা এই পেশায় এসেছেন। তাই শুধু যানবাহন বন্ধ করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মের পাশাপাশি তাদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শহরে যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?
রত্নাকর দাস জহুর: শুধু লাইসেন্সবিহীন যানবাহন বন্ধ করলেই হবে না। কোথা থেকে এসব যানবাহন আসছে, সেটিও দেখতে হবে। আমার মতে, নতুন যানবাহন তৈরির উৎস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে শহরের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আপনি শহরের যানবাহনের লাইসেন্স নিয়ে একটি সিন্ডিকেটের অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
রত্নাকর দাস জহুর: আমার ধারণা, লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় একটি সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে। একই নামে একাধিক লাইসেন্স থাকার কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। এই সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত না হলে যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শুধু অবৈধ পরিবহন সরিয়ে নিলেই কি শহর যানজটমুক্ত হবে?
রত্নাকর দাস জহুর: না। যানবাহনের সংখ্যা বেশি হলে নিয়ন্ত্রণের জন্য সময়ভিত্তিক ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেমন, একদল যানবাহন নির্দিষ্ট সময় এবং অন্যদল অন্য সময়ে চলাচল করবে। এভাবে গ্রুপভিত্তিক চলাচল চালু করা গেলে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ধরে রাখতে কী করা প্রয়োজন?
রত্নাকর দাস জহুর: শুধু দুই—তিন দিনের অভিযান চালালে হবে না। নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি থাকতে হবে। অভিযান বন্ধ হলেই আবার ফুটপাত দখল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের বিষয়টিও দেখতে হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্ধারিত বাজার থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ী সড়কের পাশে বসেন। তাদের কীভাবে নির্ধারিত জায়গায় নেওয়া সম্ভব?
রত্নাকর দাস জহুর: নির্ধারিত জায়গায় যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিকভাবে তাদের সেখানে নিতে হবে। অনেকের ধারণা, সামনের রাস্তায় বসলে বিক্রি বেশি হয়। এই মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্ধারিত বাজারকে কার্যকর করতে হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: যত্রতত্র গাড়ি থামানো ও অবৈধ স্ট্যান্ডের বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?
রত্নাকর দাস জহুর: বৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড দিতে হবে। কোথাও ৫০টি, কোথাও ১০০টি যান রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্ট্যান্ড না থাকলে চালকেরা যেখানে জায়গা পান, সেখানেই গাড়ি দাঁড় করাবেন। তাই স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা পৌর কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: যানজট ও দখলমুক্ত শহর গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ কীভাবে হতে পারে?
রত্নাকর দাস জহুর: শহরের বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষকে নিয়ে একটি কমিটি করা যেতে পারে। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য থাকতে পারেন। প্রতি মাসে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলে শহরের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার