বৃত্তির টাকা আত্মসাৎ!

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৬

মধ্যনগর উপজেলার গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা না দেওয়া, বিদ্যালয়ের ফান্ড ও সরকারি অনুদানের অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ব্যয় দেখানো, পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম, রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং শিক্ষক—কর্মচারীদের প্রাপ্য ভাতা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

 


এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গলহা গ্রামের বাসিন্দা মো. ওয়াসিম মিয়া গত ৬ সেপ্টেম্বর ইউএনওর কাছে দেওয়া আবেদনে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ফান্ড ও সরকারি অনুদানের বিভিন্ন খাতের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ব্যাংকে জমা না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ব্যয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।

 


অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ করা হয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নতুন পাকা ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারী।

 


বিভিন্ন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন—সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে অর্থ গ্রহণ এবং সহকারী শিক্ষক—কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের প্রাপ্য বিভিন্ন ভাতা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই আবেদনে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দশম শ্রেণির কোনো কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ না নিলেও টাকার বিনিময়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন প্রধান শিক্ষক।

 


অন্যদিকে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধ্রুব দেবনাথের মা যমুনা দেবী ইউএনও’র কাছে দেওয়া পৃথক আবেদনে অভিযোগ করেন, তার ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু এখনো সে বৃত্তির অর্থ পায়নি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কখনো সার্ভারের সমস্যা, আবার কখনো শিক্ষার্থীর জন্মসনদ অনলাইনে না থাকার কারণ দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন ওই অভিভাবক।

 


একইভাবে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিলি রানী চন্দের মা লাকী রানী শীলের অভিযোগ, তার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে সাধারণ গ্রেড এবং অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু দুই পর্যায়ের বৃত্তির অর্থই তারা পাননি। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 


অভিভাবকদের আবেদনে বৃত্তির তালিকা, সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড, ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য বৃত্তির অর্থ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

 


অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এজন্য বিদ্যালয়ের আর্থিক নথিপত্র, ক্যাশবুক, ভাউচার, ব্যাংক হিসাব, বৃত্তির তালিকা, পরীক্ষার নথি, হাজিরা খাতা এবং ভবন নির্মাণকাজ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 


অভিযোগের বিষয়ে জানতে গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন ব্যস্ত পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার