প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৯
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সার্ভার জটিলতার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে ভূমির খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না ভূমি মালিকরা। একই সঙ্গে নামজারি কার্যক্রমেও বাধার সৃষ্টি হওয়ায় জমি কেনাবেচা ও রেজিস্ট্রিসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ও ফতেপুর ইউনিয়নের ৪৪টি মৌজার ভূমি মালিকরা এই সমস্যায় বেশি ভুগছেন বলে জানা গেছে। খাজনা পরিশোধ ও নামজারির জন্য ভূমি অফিসে গিয়ে সার্ভার সমস্যার কারণে ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলার শক্তিয়ারখলা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই ময়না বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ভূমি অফিসে খাজনা দিতে গিয়েছিলাম। তখন অফিসের লোকজন সার্ভার সমস্যার কথা বলে খাজনা নিতে পারেননি। দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনও একই অবস্থা। এলাকার অনেকেই খাজনা ও নামজারি করতে গিয়ে সার্ভার সমস্যার কারণে ফিরে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় ভোগান্তিতে আছি। জমি কেনাবেচা ও রেজিস্ট্রির কাজও করতে পারছি না। সমস্যার সমাধান কবে হবে, সেটাও জানি না।
একই সমস্যায় পড়েছেন সালেহ আহমদ। তিনি প্রায় ১০ দিন আগে ভূমি অফিসে গিয়ে খাজনা পরিশোধ করতে না পেরে ফিরে আসেন। তার ভাষ্য, ‘না পারছি খাজনা দিতে, না করতে পারছি নামজারি। ভূমি অফিসে গিয়ে কাজ না হওয়ায় ফিরে আসতে হচ্ছে।’
স্থানীয় ভূমিমালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাজনা পরিশোধ ও নামজারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জমি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ আটকে আছে। বিশেষ করে জমি কেনাবেচা ও রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সার্ভার জটিলতার দ্রুত সমাধান করে ভূমি সেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জমির ভূমিমালিকরা।
এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ঢাকার সার্ভারে সমস্যার কারণে এই জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ঢাকা সার্ভার টিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। আশা করি, অচিরেই সার্ভারের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
উপজেলা সদরের ইউনিয়ন (ভূমি) উপসহকারী কর্মকর্তা সম্পা রানী দাসও সার্ভার সমস্যার কারণে খাজনা পরিশোধে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল জানিয়েছেন, উপজেলার দুই—একটা মৌজায় সমস্যা আছে। সমাধানের কাজ চলছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন