প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৫
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘোষণার পর সুনামগঞ্জের গ্রামগঞ্জে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। দলীয় প্রতীক না থাকলেও বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একক প্রার্থী সমর্থনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব, একক প্রার্থী, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা নাদীর আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্বাচন ঘোষণার পর গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করবে?
নাদীর আহমেদ: আমার তা মনে হয় না। ইউনিয়ন পরিষদ একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এবার যেহেতু দলীয় প্রতীক থাকছে না, তাই রাজনৈতিক উত্তাপ এখানে মুখ্য হবে না। এই নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় নির্বাচনেও প্রশাসনিক ও দলীয় প্রভাব ছিল বলে আমি মনে করি। এর কারণে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রত্যাশিত সুযোগ পায়নি।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: দলীয় প্রতীক নেই। কিন্তু বিএনপি একক প্রার্থী সমর্থনের কথা বলছে। তাহলে প্রতীক না থাকলেও কি দলীয় প্রভাব থাকছে না?
নাদীর আহমেদ: দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। আমাদের মহাসচিবও পরিষ্কার করেছেন, এই নির্বাচন মূলত ব্যক্তির ইমেজের ওপর নির্ভর করবে। আমাদের দল তৃণমূল থেকে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিস্তৃত। ফলে অনেক প্রার্থী থাকবেন, যাদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু সবাইকে তো দল সমর্থন দিতে পারবে না। তাই দল সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য একজনকে সমর্থন দিতে পারে। এর পেছনে দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা ধরে রাখার বিষয়টিও রয়েছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলও একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি কি এসব দলের সঙ্গে সমন্বয় করবে?
নাদীর আহমেদ: যেহেতু এটি দলীয় প্রতীকের নির্বাচন নয়, তাই প্রত্যেক দল নিজেদের অবস্থান ও কৌশল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াত, এনসিপি বা অন্য দলগুলো তাদের নিজস্ব কৌশল নির্ধারণ করবে। বিএনপিও নিজেদের অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নেবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আওয়ামী লীগের অনেক বর্তমান চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এ অবস্থায় তারা প্রার্থী হতে পারবেন কি না?
নাদীর আহমেদ: যেহেতু এটি নির্দলীয় নির্বাচন, আমরা দলগতভাবে কাউকে দেখছি না। কেউ কোনো দল করেছেন—এটি একমাত্র বিষয় নয়। তবে কেউ যদি অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নেতিবাচক ভূমিকা, গণহত্যা কিংবা নির্যাতন—নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তাহলে সেটি অবশ্যই বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা কী?
নাদীর আহমেদ: আমাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট। প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন চাই। দীর্ঘদিন ধরে যারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন, নির্যাতন—নিপীড়ন সহ্য করেছেন, জেল—জুলুম উপেক্ষা করে মাঠে ছিলেন, তাদের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকাটাই স্বাভাবিক। তাদের আকাঙ্ক্ষা ও সম্মানকে গুরুত্ব দিয়েই আমাদের পরিকল্পনা হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তৃণমূলে আপনাদের অনেক নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। আপনারা কি একক প্রার্থী দিতে পারবেন?
নাদীর আহমেদ: আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে একক প্রার্থী দেওয়ার। আগে থেকেই দল এ বিষয়ে কাজ করছে। এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও যদি একাধিক জনপ্রিয় প্রার্থী থাকেন, তাহলে কাউন্সেলিং বা দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজনের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা থাকবে। এর মাধ্যমে দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সামনে আনার চেষ্টা করা হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্বাচন কমিশন এবারের নির্বাচনে কিছু কঠোর নীতিমালা করেছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
নাদীর আহমেদ: আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। যুগের সঙ্গে আমাদেরও পরিবর্তিত হতে হবে। গতানুগতিকভাবে চলার সুযোগ নেই। সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন যে নীতিমালা করেছে, সেগুলো ইতিবাচক।
বিশেষ করে নির্বাচনে কালো টাকা ও বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় থেকে বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা ভূমিকা রাখতে পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যেন শুধু প্রার্থী—কেন্দ্রিক না হয়ে সাধারণ মানুষের উৎসবে পরিণত হয় এবং ভোটাররা যেন ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারেন—এ জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
নাদীর আহমেদ: ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে প্রান্তিক স্তর। গ্রামের প্রতিটি ঘরের মানুষের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে কারা তাদের নেতৃত্ব দেবেন, কারা তাদের প্রতিনিধি হবেন—এটি জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই নির্বাচন জনগণের উৎসাহ—উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং যারা জনগণের জন্য কথা বলেন ও জনরাজনীতি করেন—সবারই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন