প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০১
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আমিন উদ্দিন, ১৫ দিন পর নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন
জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ দুই যুগ প্রবাসে কাটিয়েছেন সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বর্মাউত্তর গ্রামের আমিন উদ্দিন। মাঝে মাঝে দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে ফের গিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদিআরবে। প্রতিবারের মতো প্রবাস জীবনের ছুটি পরিবার পরিজনের সাথে কাটাতে ফ্লাইটের টিকেট কেটেছেন নিজেই। ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশে ফেরার জন্য তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে উঠেছিলেন গাড়িতে। সঙ্গে ছিলেন কুমিল্লার ও সিলেটের কানাইঘাটের আরও ৩ প্রবাসী। পথিমধ্যে আল—খুরমা এলাকায় পৌঁছালে দুই গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন বাংলাদেশের ৪ রেমিট্যান্স যোদ্ধা। নিজ হাতে দেশে ফেরার ফ্লাইট টিকেট কেটে পৌঁছে গেছেন না ফেরার দেশে।
১৫ দিন পর পরিবার ও সরকারের চেষ্টায় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সুনামগঞ্জের নিজ বাড়ি বর্মাউত্তর গ্রামের পৌছায় নিহত আমিন উদ্দিনের কফিনবন্দী মরদেহ। মরদেহ আসার খবরে সকাল থেকেই নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান শোকাহত গ্রামবাসী ও স্বজন। বিকালে মরদেহ পৌঁছালে শুরু হয় শোকের মাতম। বাদ আসর বর্মা উত্তর রামনগর বানীপুর মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে সম্পন্ন হয় দাফনকার্য।
নিহতের জামাতা মাহবুবর রহমান রকি বলেন, আমার চাচা শ^শুর এমন মাটির মানুষ ছিলেন যে, কখনো কেউ আগে সালাম দেয়ার সুযোগ পেত না। ছোট বড় যে কারো সাথে দেখা হওয়া মাত্রই তিনি আগে সালাম দিতেন। উনাকে কখনো কেউ রাগ হতে দেখেনি। যদিও কোন কষ্ট পেতেন নিজের মধ্যেই রেখে দিতেন। এমন মানুষের হঠাৎ মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। মৃত্যুর আগেও পরিবারের সাথে হাসিমুখে ফোনে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, তিনি দেশে আসছেন। কিন্তু দেশে এসেছেন ঠিকই জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়ে।
নিহতের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের পাশাপাশি কানাইঘাট উপজেলা থেকে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন ও ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বক্কর উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আমিন উদ্দিনের সাথে আমাদের এলাকার দুইজন একই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আপনাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু এই ৩ জম একসাথে ইন্তেকাল করেছেন এই দুঃখের সহমর্মিতা জানাতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে কানাইঘাটবাসীর পক্ষ থেকে আমরা আমিন উদ্দিন ভাইয়ের বাড়িতে এসেছি। আমাদের দুইজন নিহতের লাশ এখনো দেশে পৌছায়নি। কুমিল্লার একজনের মরদেহ আমিন উদ্দিনের আগে এসেছে। আপনারা সবাই দোয়া করবেন তারা যেন শহীদি মর্যাদা পায়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন