প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৩
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের সিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি কাঁচা থাকায় যাতায়াতে শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। বৃষ্টির সময় সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে প্রায়ই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে ওই সময় পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। সিংপুর গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার। কিন্তু এই আধা কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। ফলে বর্ষায় এবং সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে উঠে। এতে করে বিদ্যালয়গামী শিক্ষক—শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কখনও কখনও পা পিছলে পড়ে পোশাক ও জুতা নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে ব্যাথাও পান। বিশেষ করে কোমলমতি ছোট শিক্ষার্থীদের কাদাপানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে আসা বেশ কষ্টকর। এতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের এ সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই শিক্ষক—শিক্ষার্থীসহ বিদ্যালয়ে আসা—যাওয়া করা সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক লিটন মিয়া, মেহেদী হাসান ও নূর মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সড়ক এমন দুরবস্থায় থাকা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তন্দ্রা খানম বলেন, বষার্য় প্রধান সড়ক থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে গিয়ে আমাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাদায় জামা কাপড় নষ্ট হয়। শিক্ষার্থীরা কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতেও অনিহা প্রকাশ করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা পারভীন বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কথা উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানিয়েছি। সড়কটি পাকাকরণ হলে শিক্ষক—শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের জন্য উপকার হবে।
সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের সড়কের দুরাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সড়কটি পাকাকরণ বা ইটের সলিং করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চাহিদা তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ে কাজ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, সড়কটি সংস্কারসহ পাককরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন