প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১৩
ছাতকে রাতের আঁধারে জ্বালানি কাঠ (লাকড়ি) বহনকারী ট্রাক—পিকআপ থামিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। ছাতক—গোবিন্দগঞ্জ সড়ক ও সুরমা ব্রিজ এলাকায় কাঠবাহী গাড়ি আটক করে বিভিন্ন অজুহাতে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালকরা।
অভিযোগ উঠা দুই বনকর্মী হলেন ছাতক বনবিটের নৈশপ্রহরী মহসিন মিয়া ও বনপ্রহরী আজিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারসহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ বোঝাই প্রায় ৩০ থেকে ৫০টি ট্রাক—পিকআপ ছাতকের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এসব গাড়ি থামিয়ে কিংবা মোটরসাইকেল দিয়ে পিছু ধাওয়া করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বন বিভাগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে।
গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে গেলে ছাতক—গোবিন্দগঞ্জ সড়কের একটি অন্ধকার স্থানে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে চালকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বলতে দেখা যায় অভিযুক্ত দুই বনকর্মীকে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌরসভার আবর্জনা ফেলার রাস্তার কাছাকাছি এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান। কিছুক্ষণ পর দুইটি কাঠবাহী পিকআপ ওই এলাকা অতিক্রম করলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ি দুইটির পিছু নেন। পরে হাসান চত্বর থেকে দোয়ারাবাজারমুখী সড়কের রেললাইন পার হওয়ার পর একটি অন্ধকার এলাকায় গাড়ি দুইটিকে থামানো হয়।
এ সময় চালকদের সঙ্গে বনকর্মীদের দীর্ঘ সময় কথাবার্তা ও বাকবিতণ্ডা হয়। চালকরা মোবাইল ফোনে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি আটকের কারণ জানতে চান।
গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে গাড়ির চালকরা অভিযোগ করেন, কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটক, মামলা কিংবা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তারা।
তবে গাড়ি আটকের কারণ জানতে চাইলে বনকর্মী মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান জানান, গাড়ি ও কাঠের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন বন্ধে তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
পরে বিষয়টি ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেভিএম ফেরদৌসকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতে কাঠবাহী গাড়িগুলো আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
সড়কে গাড়ি থামিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, এভাবে রাস্তায় টাকা আদায় করা অন্যায়। বন বিভাগের কর্মীরা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। তিনি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেভিএম ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি আমি দেখতেছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন