প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫
সংগৃহীত ছবি
আমাদের মধ্যে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে, বুকে সর্দি জমলে কিংবা অনবরত কাশি হলেই কেবল ফুসফুসের সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, কাশি না হলেও ফুসফুসে বাসা বাঁধতে পারে একাধিক মারাত্মক রোগ। কাশি হচ্ছে না, তা সত্ত্বেও মারাত্মক রোগ হয়ে বসে আছে।
কারণ ফুসফুসের কিছু অংশ যেমন— টিস্যু বা রক্তসঞ্চালন তন্ত্র সরাসরি কাশির রিসেপ্টর বা উদ্দীপক ধারণ করে না, যার ফলে সেখানে রোগ ছড়ালেও প্রাথমিক অবস্থায় কোনো কাশি হয় না।
অ্যাজমা, সিওপিডি, পালমোনারি ফাইব্রোসিস থেকে শুরু করে ফুসফুসের ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগও কোনো রকম কাশি ছাড়াই শরীরে নীরব ঘাতক হিসেবে দেখা দিতে পারে। সাধারণত বুকে কফ জমলে কিংবা অনবরত কাশি হলে অনেকেই মনে করেন ফুসফুসে রোগ হয়েছে। তবে কাশি না থাকা মানে যে আপনার শ্বাসযন্ত্রটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুরক্ষিত— এমনটি ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
চিকিৎসকরা বলছেন, ফুসফুসের একাধিক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো রকম কাশি ছাড়াই নীরবে বাসা বাঁধে। কাশি হলো একটি অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা— সুস্থতার সার্টিফিকেট নয়। কেবল কাশির ওপর ভিত্তি করে ফুসফুসের স্বাস্থ্য বিচার করা যায় না।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কাশি না হলেও ফুসফুসে কোন রোগগুলো বাসা বাঁধতে পারে—
১. হাঁপানি
# কাশি ছাড়াই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও বুকের মধ্যে সাঁইসাঁই শব্দ কিংবা বুক চেপে ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে। এটা হচ্ছে হাঁপানির প্রাথমিক লক্ষণ।
# ব্যায়াম করার সময়, ধুলাবালি-দূষণের সংস্পর্শে এলে, রাতে কিংবা ভোরবেলা এই লক্ষণগুলো বাড়তে পারে। অনেকে একে সাধারণ অ্যালার্জি বা শারীরিক ফিটনেসের অভাব ভেবে ভুল করেন।
২. ফুসফুসে ক্যানসার
প্রাথমিক অবস্থায় ফুসফুসের ক্যানসারের কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। পরবর্তী সময়ে কফের সঙ্গে রক্ত ওঠা, বুকব্যথা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া কিংবা বারবার বুকে সংক্রমণ হতে পারে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে কাশি হওয়ার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকরা বলছেন, পালমোনারি ফাইব্রোসিসের মতো রোগে ফুসফুসের টিস্যু শক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। এই রোগে কাশি শুরু হওয়ার আগে রোগীর শারীরিক স্ট্যামিনা বা কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেই বুক ধড়ফড় করে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আগে যে কাজ সহজে করা যেত, সমস্যা থাকলে সেই কাজ করতেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি আসে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বুকের ভেতর বাঁশির মতো শব্দ হয় কিংবা বুক ভার হয়ে থাকে।
৩. সিওপিডি
# এতে কাশির চেয়েও খারাপ। কারণ হাঁপিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
# সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময়, হাঁটার সময় কিংবা সাধারণ কাজ করতে গিয়ে ঘন ঘন হাঁপিয়ে ওঠা এর অন্যতম লক্ষণ। ধূমপায়ীরা প্রায়শই এটিকে বয়সের ছাপ ভেবে এড়িয়ে যান।
৪. কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
# কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই শ্বাসকষ্ট কিংবা হাঁপানি হতে পারে।
# ক্রমাগত শারীরিক ক্ষমতা কমে যাওয়া।
# অস্বাভাবিক কিংবা দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
# কফের সঙ্গে রক্ত পড়া ও বুকব্যথা।
# বারবার বুকে সংক্রমণ হওয়া।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন