প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৭
ভিউ ও আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অনলাইনে মিথ্যা তথ্য, চটকদার শিরোনাম, অশালীন ভাষা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গোপনীয় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
শিশির মনির বলেন, অনলাইন দুনিয়াকে কেন্দ্র করে এখন একটি বড় ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বেশি ভিউয়ের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ থাকায় অনেকেই দর্শক আকৃষ্ট করতে চটকদার শিরোনাম ও কেটে—ছেঁটে ভিডিও প্রকাশ করছেন।
তিনি বলেন, অনেক সময় শিরোনামে যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়, মূল কনটেন্টে তা থাকে না। আবার বক্তব্যের মাঝখানের একটি অংশ কেটে রিল বা শর্ট ভিডিও হিসেবে প্রচার করা হয়। এর উদ্দেশ্য বেশি ভিউ পাওয়া এবং সেখান থেকে আয় করা।
শিশির মনিরের ভাষ্য, অনলাইনের পাশাপাশি বিভিন্ন টকশোতেও অশালীন ভাষা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালিগালাজ ও ঝগড়াঝাঁটির দৃশ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টে অনেক সময় তথ্য বা বিশ্লেষণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণই বেশি থাকে।
তিনি আরও বলেন, গোপন ভিডিও বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। হাজার হাজার বা লাখ লাখ মানুষ এসব ভিডিও দেখছেন ও শেয়ার করছেন। এর ফলে সমাজ ও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিশির মনির বলেন, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। কিন্তু এই ধরনের কনটেন্ট যদি ছড়ানো যায়, তাহলে এই ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করারও টেকনিক্যাল ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত নো—হাউ অর্জন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালুর কথাও বলেন তিনি।
শিশির মনিরের মতে, শিশু, নারী ও বয়স্কদের কথা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইনে কনটেন্ট প্রকাশে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী বা অনুপযুক্ত ভিডিও প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কণ্ঠ রোধ না করে প্রযুক্তিগত ও পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনলাইন পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এ জন্য সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন