প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৪
মাধ্যমিক পর্যায়
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলায় মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হয়েছেন এমদাদুল হক মিলন। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর এসএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃতী সন্তান।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক পত্রে (স্মারক নং: ৩৭.০২.৯০০০.০০০.৪২.০০০.২৬—৪৫৪) মাধ্যমিক পর্যায়ের গুণী শিক্ষকের তালিকায় ৮১ নম্বর নম্বর পেয়ে জেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং শিক্ষকতা পেশায় দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁর এই অর্জনে বিশ্বম্ভরপুর ও সোনাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিবার ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মহলে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ইংরেজি বিষয়টিকে সহজ, কার্যকর ও আনন্দময় করতে এমদাদুল হক মিলন নিয়মিত উদ্ভাবনী ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে তিনি অনন্য ভূমিকা রাখছেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তাঁর রচিত ‘ডাইনামিক ইংলিশ গ্রামার’ এবং ‘ডাইনামিক স্পোকেন ইংলিশ’ বই দুইটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে, যা পুস্তক প্রকাশনা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত।
শ্রেণীকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে তিনি সোনাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’ ও ‘ডিবেটিং ক্লাব’, যেখানে তিনি পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে তাঁর শিক্ষাবিষয়ক নিবন্ধ ও গবেষণা প্রকাশনা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়। এমনকি তাঁর একটি প্রবন্ধ লন্ডন থেকেও প্রকাশিত হয়েছে। করোনা মহামারির সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালে তিনি অনলাইনে প্রায় ১০০টি ক্লাস পরিচালনা করেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে। শিক্ষক জীবনের শুরুতে তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ School Coordinator’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ‘Connecting Classrooms’ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিদ্যালয়কে মর্যাদাপূর্ণ ‘আন্তর্জাতিক স্কুল অ্যাওয়ার্ড’ এনে দেন। তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের কাছ থেকে তিনি সরাসরি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এমদাদুল হক মিলন আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠন ‘রোটার্যাক্ট ইন্টারন্যাশনাল’—এর এসআইইউর সাবেক সভাপতি হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং ২০২০ সালে ভারতে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি বন্যাদুর্গত শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় এমদাদুল হক মিলন বলেন, এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতাই আমার এই অর্জনের মূল চালিকাশক্তি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতায় মানসম্মত পাঠদান প্রদান ও আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে চাই।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন