প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মা ও শিশুরা

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৭

সুনামগঞ্জ ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবন অসমাপ্ত পড়ে থাকায় ভাড়া ভবনের সীমিত পরিসরে চলছে চিকিৎসাসেবা। এতে প্রসূতি মা, শিশু ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো ভোগান্তিতে পড়ছেন। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতা, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা ও দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর বিষয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. ননী ভূষণ তালুকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: একটি সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। এটি কি শুধু নির্মাণ প্রকল্পের বিলম্ব, নাকি এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারও জড়িত?
ডা. ননী ভূষণ তালুকদার: জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে। এ দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবন পড়ে আছে, অন্যদিকে ভাড়া ভবনে সীমিত চিকিৎসা চলছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী প্রসূতি মা ও দরিদ্র পরিবারগুলো। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ডা. ননী ভূষণ তালুকদার: মা ও শিশু স্বাস্থ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় মানুষ তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে ভাড়া ভবনে মূলত বহির্বিভাগের সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক প্রসব ও অস্ত্রোপচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ—সুবিধা সেখানে নেই।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পূর্ণাঙ্গ ওটি না থাকায় জটিল রোগীদের সদর হাসপাতাল বা সিলেটে পাঠাতে হচ্ছে। একজন প্রসূতি মায়ের জন্য এ রেফার ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও ভোগান্তিকর?
ডা. ননী ভূষণ তালুকদার: একজন প্রসূতি মা অনেক কষ্ট করে চিকিৎসার জন্য আসেন। পরে রেফার করা হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এতে রোগীর জন্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ পড়ে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সিলেটে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া অনেক কষ্টকর।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে, অথচ ভবনের অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি। পরিকল্পনা বা প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কোথায় ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন?
ডা. ননী ভূষণ তালুকদার: যতটুকু জানি, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এ দীর্ঘসূত্রতার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এবং জেলার মা ও শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সাধারণ মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন যেখানে, সেখানে বছরের পর বছর একটি সরকারি স্থাপনা পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি কী হওয়া উচিত?
ডা. ননী ভূষণ তালুকদার: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সময়মতো কাজ শেষ করা গেলে মানুষ সঠিক সেবা পাবে এবং ভোগান্তি কমবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্মাণাধীন ভবন চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত বড় কোনো ভাড়া ভবনে সেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজন আছে কি?
ডা. ননী ভূষণ তালুকদার: শহরের কেন্দ্রস্থলে ভালো ভবন পাওয়া এবং ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। তবে এমন ভবন পাওয়া গেলে যেখানে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ রয়েছে, সেখানে সাময়িকভাবে সেবার পরিসর বাড়ানো যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্মাণাধীন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করা।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: দ্রুত পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করতে এখন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি?
ডা. ননী ভূষণ তালুকদার: শুধু শহরকেন্দ্রিক সেবার ওপর নির্ভর না করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল দিতে হবে। সেখানে শুরুতেই রোগীরা সেবা পেলে শহরের উপর চাপ কমবে। অনেক জায়গায় অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সেবাকেন্দ্রের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে নিজ এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সেবা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার দায় কোনো একক ব্যক্তির উপর না দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অসমাপ্ত কাজ শেষ করার প্রক্রিয়াগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার