প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১০
হৃদযন্ত্রে জটিলতা। চিকিৎসার টাকার অভাব
সাড়ে চার বছরের শিশু সৃজন দাস। বয়সের তুলনায় তার বেড়ে ওঠার গল্পটা অনেকটাই ভিন্ন। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতা থাকলেও এক বছর বয়সে অন্য শিশুদের তুলনায় তার শারীরিক পার্থক্য বুঝতে পারেন পরিবার। এরপর শুরু হয় চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে চলা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা রতন দাস পেশায় সিএনজি চালক। স্ত্রী স্বপ্না রানী দাস, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার চার সদস্যের সংসার। প্রতিদিন সিএনজি চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই চলে পরিবারের খরচ। ছেলে সৃজনের শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ার পর প্রথমে সুনামগঞ্জে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হন। পরে সিলেটে চিকিৎসা করান রতন দাস। এরপর ছেলেকে নিয়ে যান ঢাকায়। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শে করানো হয় নানা পরীক্ষা—নিরীক্ষা।
.jpg)
পরীক্ষা—নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, সৃজনের হৃদযন্ত্রে জটিলতা রয়েছে। তার হৃদযন্ত্রে ব্লক ও ছিদ্র রয়েছে। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রে অতিরিক্ত মাংসপেশি বেড়ে গিয়ে ভাল্বের উপর চাপ তৈরি করেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, দ্রুত অপারেশন করানো প্রয়োজন। এই অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকা, যে অর্থ জোগাড় করা রতন দাসের মতো একজন সিএনজি চালকের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব। ইতোমধ্যে ছেলের চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করার পাশাপাশি প্রায় ২ লক্ষ টাকা ঋণ হয়েছে।
রতন দাস বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে সুনামগঞ্জে চিকিৎসা করিয়েছি। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সিলেট ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এরই মধ্যে চিকিৎসা, পরীক্ষা—নিরীক্ষা, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই টাকা জোগাড় করতে নিজের জায়গা—জমি বিক্রি করেছি, পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মানুষের কাছ থেকেও ঋণ নিতে হয়েছে। এখন আর আমার হাতে কোনো টাকা—পয়সা নেই। ঋণও অনেক হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য একটি জটিল অপারেশন করতে হবে। এ অপারেশনের জন্য প্রায় সাত লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এরই মধ্যে চিকিৎসার পেছনে যা ছিল, সবকিছু শেষ করে ফেলেছি। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি। মানুষের সহায়তা ছাড়া এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
সৃজনের মা স্বপ্না রানী দাস বলেন, সাড়ে চার বছর ধরে আমার ছেলে অসুস্থ। তার শ্বাসকষ্ট হয়, কয়েক দিন পরপরই জ্বর আসে। অসুস্থতার কারণে সে হাঁটাচলাও করতে পারে না। সারাদিন তাকে কোলে করে রাখতে হয়। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমাদের যা কিছু ছিল, সব বিক্রি করে দিয়েছি। এরপরও পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে পারিনি। এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো সামর্থ্য আমাদের নেই। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেউ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার ছেলের চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে। আমি সবার কাছে আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।
স্বজনরা জানিয়েছেন, সৃজনের চিকিৎসার জন্য তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সৃজনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের মানবিক সহায়তা।
প্রতিবেশী দুলন রানী দাস বলেন, সৃজনকে নিয়ে আমাদের সবারই অনেক মায়া। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখছি। কয়েক দিন পরপরই তার পরিবারকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এরই মধ্যে তারা নিজেদের জায়গা—জমি ও যা কিছু ছিল, অনেকটাই বিক্রি করে দিয়েছে। এখন চিকিৎসার জন্য যে সাত লাখ টাকা প্রয়োজন, সেই টাকা জোগাড় করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদেরও এত টাকা নেই যে একাই তাদের পাশে দাঁড়াতে পারব। তাই সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ যদি সৃজনের চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো শিশুটির চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে।
জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট ডা. প্রদীপ কুমার বিশ্বাস গত বছর সৃজন দাসকে চিকিৎসা করেন। এ সময় প্রেসক্রিপশনে তিনি উল্লেখ করেন, রোগীর পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত অস্বচ্ছল। সৃজন জন্মগত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত। শুধুমাত্র ওষুধের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়, তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে এটি একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার।
অসহায় পরিবারটির পক্ষ থেকে সৃজনের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগাযোগের নম্বর, রতন দাস ০১৭৫২৩৬২১৩৬
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন