প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:১২
খেলাধুলা ও কাজের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় পরিবর্তনের উদ্যোগ
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একজন ভালো শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ও গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। সুনামগঞ্জেও এবার বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। বিশেষ ও সৃজনশীল শিক্ষাদান পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়া, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নসহ নানা অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন, তাঁদের বিশেষত্ব এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে—এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডিজিটাল ইনচার্জ সাইদুর রহমান আসাদ।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ? এই স্বীকৃতি একজন শিক্ষকের পাশাপাশি পুরো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে?
মোহন লাল দাস: শ্রেষ্ঠ বা গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রাথমিক শিক্ষার নিয়মিত কাজের অংশ। একজন শিক্ষক যখন তাঁর কাজের জন্য স্বীকৃতি পান, তখন তাঁর মধ্যে কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ে। একই সঙ্গে তাঁর দায়িত্বও বেড়ে যায়। ফলে তিনি আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষকরাও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জে এবার কতজন শ্রেষ্ঠ ও গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন?
মোহন লাল দাস: শিক্ষা পদকের জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে এবার ধর্মপাশা উপজেলার ২ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমুল আলম নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মধ্যনগর উপজেলার নয়াবন্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. নুরুল আলম। তিনি বিভাগীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ হয়েছেন এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শ্রেষ্ঠ ও গুণী শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় বিবেচনা করা হয়?
মোহন লাল দাস: এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের নির্ধারিত ছক অনুযায়ী বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান, অবকাঠামোগত অবস্থা, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো দেখা হয়। সহকারী শিক্ষক হলে তিনি নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করছেন এবং প্রধান শিক্ষক হলে বিদ্যালয়কে কীভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক, নৈতিক ও সামাজিক গুণাবলি তৈরি করতে একজন শিক্ষক কী ভূমিকা রাখছেন, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা ও গণিত শেখার পাশাপাশি শিশুদের মনে ভালো চিন্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের বাসিন্দা বিউটি রানী পাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সৃজনশীল পাঠদান পদ্ধতিও প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সুনামগঞ্জের শিক্ষকদের মধ্যেও এ ধরনের সৃজনশীল পাঠদান পদ্ধতি কীভাবে বাড়ানো সম্ভব?
মোহন লাল দাস: বিউটি রানী পালকে অভিনন্দন। তিনি সৃজনশীলভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন। ভবিষ্যতে প্রাথমিক শিক্ষায় গতানুগতিক পাঠদানের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে বই পড়ানো নয়, কাজের মাধ্যমে, খেলাধুলার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন প্রায়োগিক কৌশলে শেখানো হবে। তারা যে বিষয় শিখবে, তা হাতে—কলমে ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে শেখার সুযোগ পাবে।
মোহন লাল দাস আরও বলেন, শিক্ষাক্রমে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কৌশলের মাধ্যমে পাঠদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সুস্থ—সবল শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সৃজনশীল শিক্ষাদান পদ্ধতিতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু মুখস্থনির্ভর না হয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও হাতে—কলমে শেখার সুযোগ পাবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন