প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৭
মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
তাহিরপুর উপজেলার মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লীপার নির্মাণ না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
মাটিকাটা গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে দাখিল করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে করে বলেন, তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করার জন্য তিনি নির্দেশ দেবেন।
দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া আনুমানিক প্রায় ৮/৯ মাস আগে বন বিভাগ বা উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ৪/৫টি গাছ কেটে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক। বিগত ২০২২—২৩ অর্থবছরে (প্রাক্কলন জানুয়ারী—জুন/২০২৩) বিদ্যালয়ের অসহায় ১০জন শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরির জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপ ফান্ডের ৯,৫০০ টাকা, জানুয়ারী—জুন ২০২৩—২৪ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ থেকে স্লীপার নির্মাণ না করে আত্মসাত করেন।
২০২৪—২৫ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের দরিদ্র ১০০জন শিক্ষার্থীদের খাতা—কলমের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপ ফান্ডের ১০ হাজার টাকা, ওয়াশব্লক মেরামতের জন্য বরাদ্ধকৃত ২০ হাজার টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সুপরিকল্পিত ২টি টয়লেট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি সম্পদের চরম অপচয় করা হয়েছে।
মেয়াদ উত্তীর্ণ রাসায়নিক ব্যবহার করোনার সময় সরকার প্রদত্ত ওয়াশরুম পরিষ্কার সামগ্রী যথাযথ ব্যবহার না করে তালাবদ্ধ করে রাখেন প্রধান শিক্ষক। ২০২৪ সালে পরিষ্কার সামগ্রীর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক পরিষ্কারের কাজে মেয়াদোত্তীর্ণ ফিনাইল, ফিক্সল, লিজল ও ফিনিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে ওয়াশব্লক জীবাণুমুক্ত হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো সেখান থেকে এক ধরণের তীব্র ও বিষাক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগে ভুগছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসান উদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের স্লীপারের টাকা তিনি বিদ্যালয়ের দেয়াল নির্মাণ কাজে ব্যয় করবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন