অ্যাড. রুমেন জেলা হাজতে

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৮

সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 


বুধবার বিকেল আনুমানিক ৩ টার দিকে পুলিশি পাহারায় আদালত ভবনে নেওয়া হয় খায়রুল কবির রুমেনকে। পুলিশের সদস্যরা ঘিরে আদালত ভবনের ওপরের তলায় নিয়ে যান। পরে তাকে আদালতের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা ও কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 


জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল বলেন, খায়রুল কবির রুমেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। পাশাপাশি সহকর্মী আইনজীবীদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করাও তার উদ্দেশ্য ছিল। এরমধ্যেই আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ প্রবেশ করে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ডিবি ও পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েক কর্মকর্তা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত উঠে আসেন। যে মামলায় রুমেনকে ৬৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন এই আইনজীবী। মামলাটিকে তিনি ষড়যন্ত্রমূলক বলেও দাবি করেন।

 


তিনি আরও বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ ও আইনজীবী সমিতির সামনে পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে একজন আইনজীবীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চাপ প্রয়োগ করে তাকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রুমেনের জামিনের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

 


নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, পুলিশ খায়রুল কবির রুমেনকে বুধবার বিকাল ৩ টায় সুনামগঞ্জ সদর আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিনের আদালতে হাজির করেন। আদালতের শেষ সময়ে তারা শুনানী করেননি। বৃহস্পতিবার শুনানী করা হবে বলে জানান তিনি। 
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, খায়রুল কবির রুমেনকে একটি ভিত্তিহীন মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার ঘটনার সময় তার উপস্থিতির কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই এবং ছাত্রলীগের ওই মিছিলেও রুমেন ছিলেন না দাবি করেন তিনি। 
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার দিকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চাপ সৃষ্টি করে রুমেনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়। বুধবার আদালতে হাজির করতে বিলম্ব হওয়ায় জামিনের আবেদন করা হয়নি। 

 

 


এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে খায়রুল কবির রুমেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে ভবনের সামনের সড়কে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন। পরে রুমেন ভবন থেকে বের হলে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির তাকে মোটরসাইকেলে করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যান। তাদের সঙ্গে ডিবি পুলিশের একটি দলও থানায় যায়। থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশ রুমেনকে হেফাজতে নিয়ে যায়।

 


খায়রুল কবির রুমেন ১৯৯৭ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং তিনবার সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পিতা প্রয়াত আব্দুর রইছ সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। রুমেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের বড় ভাই।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার