গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখলেই মানুষের ভাগ্য বদলাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫১

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই কেবল জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব। তিনি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টাকারী ও গণতন্ত্রের শত্রুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

 


বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এই কথা বলেন। সভায় তিনি নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেন। একই সঙ্গে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি মাগরিবের আজানের আগে সংক্ষেপে কথা বলার কথা জানান। বহু বছর পর ফুলগাজীতে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মা বেঁচে নেই, তাই মায়ের বাড়ির মানুষদেরই এখন তাঁকে দেখে রাখতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 


নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রম্নতি রক্ষার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করলে ইমাম—মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের সম্মানীর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। তা কার্যকর হচ্ছে। খালেদা জিয়ার সময় নারীশিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। এটি অনার্স পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। শুধু এই ওয়ার্ডেই ৫১০ জন মায়ের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে সম্মানীর পাশাপাশি ধীরে ধীরে অন্তত একটি ফসলের সার, কীটনাশক ও বীজ সরকারিভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সারা দেশে এক লক্ষেরও বেশি কৃষকের হাতে কার্ড পৌঁছেছে। মেধাবী শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা খরচ জোগাতে না পারা দরিদ্র মানুষকে সরকারি অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই অর্থ জনগণের এবং তা জনগণের কাজেই ব্যয় হচ্ছে।

 


সভায় আসার আগে মুহুরী নদী খনন কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের বন্যার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। এতে কৃষক সময়মতো সেচের পানি পাবে, বর্ষার বাড়তি পানি শুকনো মৌসুমের জন্য ধরে রাখা যাবে এবং বন্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। ফলে ফসল, গবাদিপশু ও বাড়িঘর রক্ষা পাবে।
পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই কাজ শুরু হয়েছে।

 


স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ফুলগাজীর ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালের প্রথম ৩০ শয্যা জিয়াউর রহমানের আমলে এবং বাকি ২০ শয্যা ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের সময় তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলো ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বৈরাচারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল—কারখানা চালুর জন্য দেশি—বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ব্যবসা—বাণিজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দোকানের সামনে হট্টগোল বা মারপিট হলে যেমন ব্যবসা চলে না, তেমনি দেশে অরাজকতা হলে নদী খনন, বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো কাজ সম্ভব নয়। 

 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন ধরে একটি অংশ ‘এক দফা, এক দফা’ স্লোগান তুলে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং যারা এখন ‘এক দফা’ বলছে, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ বা ইমাম—মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর মতো কোনো কর্মসূচি আছে? জনতা প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে ‘না’ বলেন। এ ধরনের শক্তির ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 


নাম উল্লেখ না করে একটি দলকে ‘গুপ্ত বাহিনী’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ওই দল ভোট চেয়ে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করছিল। তিনি বলেন, বেহেশত—দোযখের মালিক একমাত্র আল্লাহ, আর যা দেওয়ার ক্ষমতা কেবল আল্লাহর, তা মানুষ দেবে বললে তা শিরকের পর্যায়ে পড়ে। উপস্থিত জনতা এতে সম্মতি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতা—কর্মীরা জেল—জুলুম ও গায়েবি মামলার শিকার হলেও রাজপথে ওই দলের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, ওই দলও পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার আবার একসাথে হয়েছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের পাশাপাশি গত নির্বাচনেও তারা একসঙ্গে ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 


একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না বলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষক ও নারীদের জন্য কোনো কর্মসূচি দেখা যায় নি। সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করলেই জনগণের ভাগ্য বদলায় এবং তাতে দেশেরও ভাগ্য বদলায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশ গঠনের দায়িত্ব সবার।

 


সভায় স্থানীয় তরুণদের মেডিকেল কলেজের দাবির প্রসঙ্গ উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকলে মেডিকেল কলেজসহ সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন এবং সবাইকে নিয়ে প্রতিজ্ঞা করান।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী—১ আসনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িত। ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জাতীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার