প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৫
শাল্লা উপজেলায় সরকার ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় সারাদেশের ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এর অংশ হিসেবে শাল্লা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শাল্লা উপজেলার ১ হাজার ৭৬১ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে আড়াই হাজার টাকা করে কৃষি সহায়তার অর্থ পৌঁছে যায়।
.jpg)
প্রাথমিকভাবে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ২ হাজার ১২২ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তালিকাভুক্ত ২ হাজার ১২২ জনের মধ্যে দরিদ্র, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১ হাজার ৭৬১ জনের হিসাবে উদ্বোধনের দিনই আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ, কৃষি বিমা এবং বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. তারিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এবং দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সুহেল, শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল, আব্দুল করিম, নিত্যানন্দ দাস নিতাই, জাকির হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায়, পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ.দা.) আবু সাঈদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী, সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল মুহিত, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহমেদ, মৎস্য কর্মকর্তা (অ.দা.) সন্দীপন মজুমদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা—কর্মচারী।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব সোবহানি চৌধুরী, সাবেক সহসভাপতি আলী আমজাদ, দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রুদ্র মিজান, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব রুবেল আহমেদ দুলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব মিয়া ও আলতাব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নুরুল আমিন, কৃষকদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান হাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক ও একরামুল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান মুন্না, যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদ ও আশিকুর রহমান, ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা—কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং কৃষক ব্রজেশ রঞ্জন চৌধুরী, নির্মল চন্দ্র সরকার, আব্দুর রউফ, গফুর মিয়া, অমল কান্তি দাস, যমুনা আক্তার ও আসিয়া খাতুনসহ স্থানীয় কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষাণী আসিয়া খাতুন বলেন, কৃষক কার্ড পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা কৃষকরা অনেক সময় সরকারি সুযোগ—সুবিধা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে বা পেতে নানা সমস্যায় পড়ি। এই কার্ডের মাধ্যমে যদি সার, বীজ, কৃষি উপকরণসহ সরকারি সহায়তা সহজে পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে।
অমল কান্তি দাস বলেন, কৃষক কার্ড পাওয়ায় ভালো লাগছে। সরকার কৃষকদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে, এটা আমাদের জন্য আশার বিষয়। আমরা চাই, কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের প্রাপ্য সুযোগ—সুবিধা যেন সহজে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া হয়।
গফুর মিয়া বলেন, কৃষক কার্ড হাতে পেয়ে মনে হচ্ছে কৃষকদের গুরুত্ব দিয়ে সরকার নতুনভাবে কাজ করছে। আমরা মাঠে ফসল ফলিয়ে দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য সহায়তা পেলে আমাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং আমরা আরও উৎসাহ নিয়ে কৃষিকাজ করতে পারব।
নির্মল সরকার বলেন, আজ কৃষক কার্ড পেয়ে খুব ভালো লাগছে। কৃষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আমরা আশা করি, শুধু কার্ড দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না; কার্ডধারী কৃষকরা যেন নিয়মিত সরকারি সুযোগ—সুবিধা পান, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন