মাঠে বর্তমান, সাবেক ও প্রবাসীরা

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৯

জগদল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ ঘিরে তৎপরতা তুঙ্গে

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দিরাই উপজেলার ৭ নম্বর জগদল ইউনিয়নে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। চায়ের দোকান থেকে হাট—বাজার, পাড়া—মহল্লা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে, আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কে কে প্রার্থী হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরুর পর থেকেই জগদল ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নড়েচড়ে বসেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন, কেউ আবার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন। অনেকে এলাকার মানুষের কাছে দোয়া ও সহযোগিতাও চাইছেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু না হলেও ইউনিয়নের গ্রামেগঞ্জে এরই মধ্যে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাভলু এবারও নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, ইউনিয়নের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তবে হুমায়ুন রশিদ লাভলু বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। 

 


এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে ইউনিয়নে তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

 

 


জগদল ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যেও একাধিক নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে কামরুল হাসান দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা হিসেবে নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন। তিনি জগদল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কামরুল হাসান বলেন, আমি তৃণমূলের একজন ত্যাগী কর্মী। দলের দুর্দিনে মামলা—হামলা ও জেল—জুলুমের শিকার হয়েছি। সবসময় দলের সঙ্গে ছিলাম। দলীয় হাইকমান্ড সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে সমর্থন দেবে বলে আমি আশাবাদী।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমানের নামও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ—২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

 

 


মিজানুর রহমান বলেন, জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। বছরে অন্তত একবার দেশে এসে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সুযোগ পেলে জগদল ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।
তাঁর চাচাতো ভাই ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান হোসাইন বলেন, আমার চাচাতো ভাই দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি করেছেন। আমরা আশা করি, দল তৃণমূলের ত্যাগ ও যোগ্যতা বিবেচনা করে তাঁকে মনোনয়ন দেবে। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তাঁর পক্ষেই কাজ করব।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জগদল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদও চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, তিনি স্থানীয় মানুষের সুখে—দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করে আসছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী রুবেল আহমদ। 

 

 


এছাড়া গ্রীসপ্রবাসী ও জগদল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রুবেল খাঁন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন দলের আন্দোলন—সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূলের ত্যাগ ও দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনা করে দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ইতালিপ্রবাসী ও জগদল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক মোল্লাও চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, দলের আন্দোলন—সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে জনগণের সেবা করার সুযোগ কাজে লাগাবেন। তবে মনোনয়ন অন্য কেউ পেলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তাঁর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তিনি। 

 

 


দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বাইরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মাওলানা আওলাদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসে থাকলেও এলাকার মানুষের জন্য সবসময় কিছু করার চেষ্টা করেন। নিজের অর্থায়নে বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি। মাওলানা আওলাদ হোসেন বলেন, জগদল ইউনিয়নের দায়িত্ব পেলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। 
জগদল ইউনিয়নের রাজনীতিতে এবারের নির্বাচন ঘিরে পুরোনো হিসাবের সঙ্গে নতুন সমীকরণও তৈরি হচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সাবেক জনপ্রতিনিধি, দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী, প্রবাসী নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতায় সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিধি বাড়ছে।
এর আগে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জগদল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন হুমায়ুন রশিদ লাভলু। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে তিনি ৮ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়েছিলেন। 

 

 


স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোক্তাদির ও আবুল হাসনাতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান, দলীয় সমর্থন, প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক অবস্থান নির্বাচনের হিসাব—নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা হয় নি। ফলে বর্তমানে মাঠে সক্রিয় ব্যক্তিদের অধিকাংশের প্রার্থিতাই সম্ভাব্য পর্যায়ে রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে, কে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে থাকবেন এবং কে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এসব বিষয় তফসিল ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে স্পষ্ট হবে। 
স্থানীয় ভোটার এলাইছ মিয়া ও তাজুদ মিয়া বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নানা প্রতিশ্রম্নতি শোনা যায়। শেষ পর্যন্ত যিনি মানুষের পাশে থাকবেন এবং ইউনিয়নের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবেন, ভোটাররা তাঁকেই গুরুত্ব দেবেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার