আড়াই হাজার টাকা সহায়তার পাশাপাশি সময়মতো কৃষি উপকরণ প্রয়োজন

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৩

হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজেলা শাল্লায় কৃষকদের জন্য চালু হয়েছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭৬১ জন কৃষকের হিসাবে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পৌঁছেছে। তবে কৃষক কার্ডের সুফল শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষি উপকরণ ও সরকারি সেবা স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষক কার্ডের সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও কৃষক নেতা মো. আকবর আলী। সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শাল্লার মতো হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজেলার কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মো. আকবর আলী: শাল্লা একটি পিছিয়ে পড়া উপজেলা। এখানে কৃষক কার্ড কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে প্রকৃত কৃষক নির্বাচন করা গেলে কৃষকরা কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ, কৃষি বীমা ও বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদনও বাড়তে পারে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আড়াই হাজার টাকা সহায়তার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ কমাতে এই কর্মসূচি কী ভূমিকা রাখতে পারে?
মো. আকবর আলী: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন কৃষি সহায়তা পেলে উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু অর্থ সহায়তা নয়, সময়মতো কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য সুবিধা কৃষকের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সার, বীজ, কৃষিঋণ, সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতির সুবিধা কীভাবে কার্যকরভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব?
মো. আকবর আলী: কৃষি বিভাগ এ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করলে প্রকৃত কৃষক চিহ্নিত করা এবং তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের সময় প্রকৃত কৃষক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে কী করা প্রয়োজন?
মো. আকবর আলী: কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করতে হবে। কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যাতে তালিকায় না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক কৃষক নির্বাচন করা গেলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কৃষক কার্ড বিতরণে বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত, যাতে দলীয় প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ না ওঠে?
মো. আকবর আলী: এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকৃত কৃষক যেন কৃষক কার্ডের আওতায় আসেন, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করা উচিত। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি যাতে না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কৃষক কার্ডের সুফল যেন শুধু প্রাথমিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না থাকে, কৃষকের আয় ও উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়—এ জন্য আপনার প্রস্তাব কী?
মো. আকবর আলী: শুধু কার্ড দিলেই হবে না। কৃষক যেন সময়মতো বীজ, সার, কৃষি উপকরণ ও কৃষি যন্ত্রপাতি পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব উপকরণ সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছালে উৎপাদন বাড়বে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি কৃষি সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার