বছর গড়িয়ে ফের চালু

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪০

দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে চালু হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট। গত রবিবার থেকে ছাতকে অবস্থিত প্লান্টটিতে পুনরায় পুরোদমে স্লিপার উৎপাদন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর উৎপাদন শুরু হওয়ায় রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্লান্টটি পরিদর্শন করেছেন।

 

 

 

 


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ের এই কংক্রিট স্লিপার প্লান্টটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামালের সংকট, জনবল ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে একাধিকবার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। সর্বশেষ প্রায় এক বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ ছিল প্লান্টটি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক বছরের বন্যার পানিতে প্লান্টটি ডুবে যাওয়ায় এর গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মেশিনারিজ মেরামত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা—নিরীক্ষায় সময় লাগায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে বিলম্ব হয়।

 


এর আগে গত বছরও কয়েক দফা প্লান্টটিতে উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামালের সংকটসহ নানা কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রেলওয়ের নিজস্ব এই গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটি বছরের বড় একটি সময়ই অচল অবস্থায় পড়ে থাকে।
১৯৮৮ সালে দৈনিক ২৬৪টি কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে ছাতকে এই প্লান্টের যাত্রা শুরু হয়। রেললাইনকে আরও মজবুত, টেকসই ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার এটি স্থাপন করে। কাঠের স্লিপারের তুলনায় কংক্রিট স্লিপারের স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় রেলপথে এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। প্লান্টে উৎপাদিত স্লিপার মূলত রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

 

 


প্লান্টটি চালুর পর ২০০০ সাল পর্যন্ত উৎপাদন কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে চললেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে এটি বন্ধ ও পুনরায় চালু হয়েছে। ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সালেও বিভিন্ন কারণে প্লান্টটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লান্টটির উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বেসরকারি খাতে পঞ্চগড়, বাংলাবান্ধা ও জামালপুরে কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনের প্লান্ট গড়ে ওঠায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেও স্লিপার সংগ্রহ করছে। ফলে ছাতকের সরকারি প্লান্টটি নিয়মিত উৎপাদনে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন করে উৎপাদন শুরুর পর আগামী এক বছরে প্রতিদিন ২৪০টি করে মোট ২৫ হাজার কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সপ্তাহে ছয় দিন উৎপাদন কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 


গত রবিবার প্লান্টটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক বছরের বন্যার পানিতে প্লান্টটি ডুবে যাওয়ায় মেশিনারিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেগুলো মেরামত করতে সময় লাগায় উৎপাদন শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রস্তুতি শেষে প্লান্টটি চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আহসান হাবিব বলেন, কংক্রিট স্লিপার প্লান্টটি প্রায় এক বছর উৎপাদন বন্ধ ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেশিনারিজের প্রয়োজনীয় মেরামত ও পরীক্ষা—নিরীক্ষা শেষে প্লান্টটি পুনরায় চালু করেছে। আশা করছি, সপ্তাহে ছয় দিন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী স্লিপার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার