প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৮
দোয়ারাবাজার উপজেলার পলিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষক সামসুল ইসলামকে গালিগালাজ, হেনস্তা ও মারতে তেড়ে আসার ঘটনা ঘটেছে শহীদুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পর শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
.jpg)
প্রধান শিক্ষক সামসুল ইসলামের অভিযোগ, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চলাকালে শহীদুল মিয়া বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে তার মামাতো বোনের নাম না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারতে তেড়ে আসেন।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দোয়ারাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। অভিযোগে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়া এবং শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
.jpg)
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে পলিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, শিক্ষকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষককে হেনস্তা বা ভয়ভীতি দেখানোর মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
প্রধান শিক্ষক সামসুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে শহীদুল মিয়ার মামাতো বোনের নাম না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। বিদ্যালয়ে এসে আমাকে গালিগালাজ করেন এবং মারতে তেড়ে আসেন। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
(1).jpg)
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ.কে.এম. মহিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস শহীদ বলেন, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে একজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযুক্ত শহীদুল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পরে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে থাকা নারীরা জানান, শহীদুল মিয়া বর্তমানে সিলেটে রয়েছেন।
শহীদুল মিয়ার ফোনে পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠিয়েও তার সারা মিলে নি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন