প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৩
এক সময় শিক্ষকের কাছ থেকে পাঠ নিয়েছেন, শিখেছেন জীবনের নানা দিক। সেই প্রিয় শিক্ষকই এখন তার সহকর্মী। শিক্ষকতা পেশায় প্রথম দিনেই শৈশবের সেই শিক্ষককে সহকর্মী হিসেবে কাছে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আল মামুন। অন্যদিকে প্রিয় ছাত্রকে সহকর্মী হিসেবে পেয়ে গর্বিত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্কের এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়েছে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়া আল মামুন পাঁচ দিনের সংযুক্তিতে বরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম একসময় তাঁর শিক্ষক ছিলেন। সময়ের ব্যবধানে সেই ছাত্রই এখন শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকর্মী হিসেবে।
ঘটনাটি নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। সেখানে তিনি লিখেছেন, শিক্ষার্থী থেকে সহকর্মী। এ এক আনন্দের ও গর্বের অনুভূতি। স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, একসময় যিনি ছিলেন তাঁর প্রিয় ছাত্র, সময়ের পরিক্রমায় সেই ছাত্রই এখন পাঁচ দিনের সংযুক্তিতে তাঁর সহকর্মী। সম্পর্কের এই এই পরিবর্তনকে আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বলে উল্লেখ করে তিনি জানান প্রিয় ছাত্রকে সহকর্মী হিসেবে কাছে পাওয়া একজন শিক্ষকের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। পাশাপাশি নতুন কর্মজীবনের শুরুতে আল মামুনকে আন্তরিক স্বাগত ও শুভকামনা জানান।
আল মামুন ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদে হরিপুর গ্রামের হাফেজ আবুল কালামের ছেলে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিজীবনের প্রথম দিনেই শৈশবের শিক্ষককে সহকর্মী হিসেবে পাওয়া তাঁর কাছে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। নিজের অনুভূতি জানিয়ে আল মামুন বলেন, উনি আমার শৈশবের শিক্ষক। বেসিক থেকে শুরু করে অনেক কিছুই তাঁর কাছ থেকে শেখা। আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিজীবনের প্রথম দিন। যদিও পাঁচ দিনের সংযুক্তিতে এখানে এসেছি, তবুও স্যারকে সহকর্মী হিসেবে পেয়ে সত্যিই আমি আনন্দিত, এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন