প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১১
‘ভাই এই লিফটের অবস্থা খুবই খারাপ। হঠাৎ বন্ধ অইযায় (হয়ে পড়ে), আপনিতো তিন তলায় যাইবা (যাবেন), পেছনের সিঁড়ি দিয়ে উঠিযাইন (ওঠে পড়েন)।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গেলে এই প্রতিবেদককে অন্য এক রোগীর স্বজন এভাবে সতর্ক করে দিচ্ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয় ২০১২ সালে। সেই থেকে আটতলা এই ভবনে রোগী ও স্বজনরা দুটি লিফট ব্যবহার করে ওঠানামা করছেন। ২০১২ সালের পর থেকে দুটি লিফটই মাঝে মাঝেই বিকল হচ্ছে। ২০২২ ইংরেজিতে বন্যার পানিতে লিফট ডুবে আরও খারাপ অবস্থা হয়েছে। এখন প্রায়ই বন্ধ থাকে লিফট। কোনভাবে জোড়াতালি দিয়ে একটি লিফট চালালে, আরেকটি বন্ধ থাকছে। এভাবে চলছে গেল প্রায় চার বছর হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন ছিল, আপনাদের লিফটগুলোর কী অবস্থা? উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি (আরএমও) লিফটে যাই না। আটতলা পর্যন্ত সিড়ি দিয়ে ওঠি। ভয় পাই ভাই, লিফটের অবস্থা ভালো নয়।’
তিনি বললেন, হাসপাতালে দুটি লিফট চালু থাকলেও রোগীর ওঠা নামার চাপ থাকে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ ওঠা নামা করেন প্রতিদিনই। ভিড় থাকে লিফটে ওঠার। এই সময়ে আট থেকে নয়শ রোগী থাকছে প্রায়ই। নয়শ রোগী থাকলে, রোগীর সঙ্গে গড়ে তিনজন করে আসা স্বজন হিসেব করলে দুই হাজার ৭০০ মানুষের চাপ আছে প্রতিদিন। সাত তলা বা আট তলায় একজন সন্তানসম্ভাবা মাকে নিয়ে লিফট ছাড়া ওঠা খুবই কঠিন। লিফট চালু থাকলেও বিদ্যুৎ চলে গেলে আটকা পড়ে লিফট। জেনারেটর চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত লিফটে থাকা রোগীরা ভেতর থেকে ফোন দিতে থাকেন। ৮—১০ মিনিটে ভয়ে ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয়। লিফটের ভেতর থেকে আমাকে ফোন দেওয়া শুরু করেন রোগীরা। আমরা বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগকেও অবগত করেছি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ বললেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি বেশি দিন হয় নি। ডাক্তার সংকটসহ নানা সমস্যা আছে। তবে হাসপাতালে এসে ভর্তি হওয়া রোগীরা প্রথমেই এসে লিফটের সমস্যায় পড়েন। যেখানে চারটি লিফট প্রয়োজন। সেখানে আছে দুটি। তাও মাঝে মাঝে নষ্ট থাকছে একটা। গণপূর্ত বিভাগ এই সমস্যার সমাধানের জন্য জন্য কাজ করছে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ম্যোল্লা রবিউল ইসলাম বললেন, আটতলা ভবনের হাসপাতালে লিফট কোর দুটিই আছে। লিফট বাড়ানোর সুযোগ কম। আলাদাভাবে করতে হলে ক্যাপসুল লিফট করা লাগবে। তাতে নানা ঝামেলা রয়েছে। মূলত. ২০২২’এর বন্যার সময় লিফট ডুবে যাওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। তবে লিফটগুলো এখনো অকার্যকর ঘোষণার সময় হয় নি। আবার মেরামত না করলেও চলছে না। গেল সোমবার ও মঙ্গলবার আলাদা আলাদাভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে নতুন লিফটের বরাদ্দ ও মেরামত বাবদ বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। দেখা যাক উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষ কী সিদ্ধান্ত দেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন