প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৮
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলার খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাচ্ছেন কৃষকরা যাতে কোন ধরণের অসহায় অবস্থায় না থাকেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আমরা যত ধান সংগ্রহ করবো সরাসরি কৃষকেরা সংগ্রহ কেন্দ্রে এসে দিয়ে যাবেন। কৃষকরা যাতে সেটা আরো সহজভাবে করতে পারেন সেজন্য যদি কোন পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা নেবো।
সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলার খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় আছে কৃষকেরা ধান দেয়ার পর পেমেন্ট পেতে ব্যাংক একাউন্ট খোলার মতো ঝামেলা যাতে পোহাতে না হয়, সেক্ষেত্রে বিকাশ কিংবা অন্য কোন ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ পদ্ধতিতে পেমেন্ট করা যায় কিনা সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় আমরা একটা পাইলট প্রজেক্ট করে দেখবো, সেখানে সফল হলে পরবর্তীতে আমরা সারা দেশে এই পদ্ধতিতে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করবো।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যটা হলো খাদ্যের মজুদটা ঠিকমতো রাখা। মান সম্পন্ন চাল ও গম রাখতে হবে। মজুদ যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে। যেকোনো দূর্যোগ মোকাবেলা করার মত আমাদের মজুদ থাকতে হবে। সেদিকে আমাদের সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আমদানিকৃত চাল যখন আসে তখন অবশ্যই মানটা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের যে মানদণ্ড আছে তার থেকে যদি কখনো এক পার্সেন্টও কম পান তাহলে সেটা আপনারা গ্রহণ করবেন না। কারণ ওই দায়ভারটা আমাদের উপর এসে পড়ে। আমি গত দু’দিন চট্টগ্রামের যতগুলো গুদামে গিয়েছি, আমি কিন্তু চাল ভালো পেয়েছি।
খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা শুনে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যেগুলো থেকে আপনারা বঞ্চিত ছিলেন, সেই গুলো সমাধান করতে আমাদের একটু সময় লাগবে। যে সমস্যাগুলোর কথা আপনারা বলছেন, ইচ্ছা করলে আগে যারা সরকারের ছিলেন তারা এগুলো সমাধান করতে পারতেন। তারা দেশের এবং জনগণের জন্য কোন কাজ করে নাই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতাহারে দেশের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব একটা কর্মসূচির কথা বলেছেন, ইশতেহারে কৃষকরা যেন তার ন্যায্য মূল্য পায় সেদিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। জনগণ যাতে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য ঘরে পৌঁছাতে পারে আমরা কিন্তু সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ করে যাচ্ছি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। যেসব সমস্যা জনগণের বিপক্ষে যাচ্ছে, জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আপনাদের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আমাদের দেখতে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি চাচ্ছেন। তা অনুসরণ করে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
খাদ্য বিতরণের বস্তায় বিতরণ সিল নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, কিছু হলে প্রথমেই খাদ্য অধিদপ্তর কে দোষ দেয়া হয়, আমাদের কাজ কিন্তু বিতরণ পর্যন্ত, তারপরে কে বাইরে কি করলো সেটার দায়ভার কিন্তু খাদ্য অধিদপ্তরের না। সেই ক্ষেত্রে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন যেন প্যাকেটের মধ্যে বিতরণ সিলটা থাকে। সেই জায়গাটায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খান, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মনোয়ারা বেগম, খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন প্রমুখ।
সভায় চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ওসি এলএসডি ও খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র:বাসস.কম
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন