জাল নোটের ‘রুট’ শহর!

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৩৭

ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১০০০ ও ৫০০ টাকার জাল নোট

বাজারে ১০০০ টাকার ও ৫০০ টাকার জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তারা। গেল কয়েকদিনে বেশ কিছু জাল নোট ব্যাংকের ক্যাশ অফিসাররা চিহৃিত করেছেন। এসব জাল নোটের রুট চিহৃিত না হলেও ব্যাংকাররা বলছেন, কৌশলে অপরাধিচক্র জাল নোট ছড়িয়ে দিয়েছে বাজারে।

 


সোমবার বেলা আড়াইটায় সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখায় টাকা জমা দিতে আসা ডিড রাইটারের সহযোগি আতিকুর রহমান দানিসের সঙ্গে বিরক্তির সুরে কথা বলছিলেন ক্যাশ কর্মকর্তারা। এসময় এই প্রতিবেদকও ব্যাংকে ছিলেন। একপর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে বললেন, ‘আতিকুর রহমান দানিস নামের এই ব্যক্তি এই কয়েকদিনে তিনবার একটা করে জাল টাকা জমা দেবার চেষ্টা করেছেন।’ পরে ব্যাংকের সিনিয়র ক্যাশ কর্মকর্তাগণ আতিকুর রহমান দানিসের কাছে জানতে চান তিনি এই টাকা কোথা থেকে এনেছেন।

 


আতিকুর রহমান জবাবে বললেন, আমবাড়ি এলাকার জমির খরিদদার এই টাকা দিয়েছেন। একপর্যায়ে আমবাড়ি এলাকার ওই জমির ক্রেতাকেও কতৃর্পক্ষ ব্যাংকে আসার অনুরোধ করেন। জমির খরিদদার এসে জানালেন, তিনি ডাচ—বাংলা ব্যাংকের আমবাড়ি বাজারের এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে টাকা তুলে এখানে জমা দিয়েছেন। ৫০০ টাকার নোটের পাঁচ বান্ডিল টাকা যেভাবে ওখান থেকে এনেছেন, সেভাবেই ডিড রাইটারকে দিয়েছেন। তবে টাকা সেলাই করা বা ইনটেক ছিল না।
আমবাড়ি বাজারের ডাচ—বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাৎক্ষণিক ফোনে কথা হয় সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ কতৃর্পক্ষের। 
জাহাঙ্গীর আলম বললেন, আমি ব্যাংক থেকে তুলে আনা টাকাই ওই গ্রাহকে দিয়েছি। গ্রাহককে আমি বিশ^াস করছি, তিনি যদি বলেন— টাকা আমার কাছ থেকে নিয়েছেন, আমি এর ভতুর্কি দেব, উনাকে ৫০০ টাকা দিয়ে দেব।

 


সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসাররা জানান, এর আগে সকালে কাজী হুমায়ুন নামের আরেকজন গ্রাহকের টাকা গুনার সময় নয়া ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পাওয়া যায়। একই দিনে এক হাজার টাকার একটি নতুন জাল নোট তাদের হাতে ধরা পড়েছে। এজন্য তারা মনে করছেন বাজারে জাল নোট ছড়ানো হয়েছে।
শান্তিগঞ্জের ব্যবসায়ী রমজান আলী বললেন, নতুন ৫০০ ও ১০০০ টাকার অবিকল জাল নোট বাজারে আছে। আমাদের কাছেও ধরা পড়েছে। জাল নোট সিন্ডিকেটের লোকজন দরিদ্র মানুষদের কাজে লাগায় টাকা বাজারজাত করতে।

 


পূবালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার প্রধান ক্যাশ কর্মকর্তা বিপ্লব ভট্টাচার্য বললেন, গেল সপ্তাহে তারাও ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পেয়েছেন। পণ্য কেনা বেচার সময় ব্যবসায়ীদের আরও সতর্কতার সঙ্গে টাকা রাখার পরামর্শ দিলেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা।

 


সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও জয়েন্ট কাস্টডিয়ান মল্লিক শামস উদ্দিন জামি বললেন, বাজারে জাল টাকার ছড়াছড়ি আছে, গেল কয়েকদিনে ১০০০ ও ৫০০ টাকার একাধিক জাল নোট পেয়েছি। এই বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে মনিটরিং বাড়াতে হবে। 

 


ডাচ—বাংলা ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম আজাদ বললেন, ‘ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তারা সতর্ক থাকলে, জাল বা নকল টাকা দেবার সুযোগ নেই। ব্যাংকে টাকা যাচাইয়ের মেশিন আছে। এরমধ্যে কোন প্রতারক ব্যাংকে নকল টাকা দিয়ে পার পেয়ে গেলে, বুঝতে হবে। ক্যাশ কর্মকর্তার গাফিলতি আছে।
পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বললেন,‘এই বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকার জন্য বলবো। ডিআইওয়ানকেও এ নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।’

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার