কৃষকদের জন্য সংগ্রহকেন্দ্র ও সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার প্রস্তাব

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২০

বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমছে, এতে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া, পাইকারি বিক্রির জায়গার অভাব ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা সমস্যায় রয়েছেন কৃষকেরা। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি এক জায়গায় সংগ্রহ, পাইকারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’এর আয়োজনে ‘খবরনাম’য় কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডিজিটাল ইনচার্জ সাইদুর রহমান আসাদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জে আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের বর্তমান চিত্র কেমন?
নুরুল আমিন: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নে মূলত আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়। এবার এই তিন ইউনিয়নে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি আবাদ করেছেন কৃষকেরা। এ বছর তুলনামূলকভাবে বন্যা কম হওয়ায় আগাম সবজি আবাদে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরামর্শ দিয়েছেন। আগাম সবজি উৎপাদন করলে বাজারে ভালো চাহিদা থাকে, পাশাপাশি বাইরের এলাকা থেকে সবজি আনার চাপও কমে যায়, বাজার তাতে স্থিতিশীল হয়।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে দাম কমছে। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কি? তাঁদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কী উদ্যোগ রয়েছে? 
নুরুল আমিন: কৃষকেরা অনেক সময় তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এর একটি কারণ হলো, উৎপাদনকারী কৃষক ও পাইকারি ক্রেতার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের উপস্থিতি। কৃষকেরা যদি এক জায়গায় তাঁদের উৎপাদিত সবজি সংগ্রহ করে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন, তাহলে পরিবহন খরচ কমবে এবং ভালো দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। আগে কৃষকদের নিয়ে কৃষি পয়েন্ট ও ক্লাবভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে। এসব সংগ্রহকেন্দ্রে একাধিক কৃষকের সবজি একত্র করে পাইকারি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলে বাজারজাতকরণ সহজ হবে। কৃষকদের এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। 

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কৃষকদের উৎপাদিত সবজি এক জায়গায় সংগ্রহ করে বাজারজাত করার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হতে পারে?
নুরুল আমিন: একজন কৃষক আলাদাভাবে অল্প পরিমাণ সবজি নিয়ে বাজারে গেলে তাঁর পরিবহন খরচ বেশি হয়। কিন্তু অনেক কৃষক এক জায়গায় পণ্য সংগ্রহ করে একসঙ্গে বাজারজাত করতে পারলে খরচ কমবে। একই সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ হবে। সংগ্রহকেন্দ্রগুলো সচল রাখা এবং কৃষকেরা যাতে সহজে সেবা পান, সে জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে তাঁরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাবেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সবজির উৎপাদন খরচ বাড়ছে। বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ মিটিয়ে কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কী ধরনের সহায়তা দিচ্ছে?
নুরুল আমিন: কৃষকদের শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানও ভালো রাখতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ফসলের রোগবালাই দমনে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ও বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কোন মৌসুমে কোন ফসল আবাদ করলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন, সে বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আগাম সবজি চাষের ক্ষেত্রেও কৃষকদের উপযুক্ত সময় ও ফসল নির্বাচন করতে সহায়তা করা হচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জ শহরের বাজারে কৃষকদের পাইকারিভাবে সবজি বিক্রির জায়গার অভাব রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগ কী উদ্যোগ নিয়েছে?
নুরুল আমিন: সুনামগঞ্জ শহরের কাঁচাবাজার পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে। জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সভা ও আলোচনায় কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাজারে এসে হয়রানির শিকার না হন এবং নিজেরা বিক্রি করার সুযোগ পান, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বাজারে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত জায়গা বা শেডের ব্যবস্থা করা গেলে তাঁরা সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কৃষকদের জন্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার প্রস্তাবের কথা বলেছেন। এতে কৃষক ও ভোক্তা কীভাবে উপকৃত হবেন?
নুরুল আমিন: কোনো একটি সবজি একসঙ্গে বেশি পরিমাণে বাজারে এলে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে যেতে পারে। তখন কৃষকেরা উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। সংরক্ষণাগার থাকলে সবজি সংরক্ষণ করে পর্যায়ক্রমে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের উপযুক্ত দাম পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি ভোক্তারাও প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি কিনতে পারবেন। এ জন্য যেসব এলাকায় বেশি পরিমাণে কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়, সেখানে সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আগামী কয়েক মাসে কোন কোন সবজির উৎপাদন বাড়তে পারে? এতে বাজারদর কমার সম্ভাবনা কতটুকু?
নুরুল আমিন: আগামী দিনে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও বিভিন্ন ধরনের শাকের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে লালশাক, পালংশাক ও পুঁইশাকের পাশাপাশি করলা এবং গাজরও বাজারে আসবে। স্থানীয়ভাবে গাজরের চাষও হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষকেরা সঠিক সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে পারলে উৎপাদন ভালো হবে। সরবরাহ বাড়লে বাজারে বিভিন্ন সবজির দামও কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সবশেষে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন?
নুরুল আমিন: কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য সংগ্রহকেন্দ্র, পাইকারি বিক্রির উপযুক্ত জায়গা এবং সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন পরিকল্পনা, ফসলের গুণগত মান ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে। কৃষি বিভাগের পরামর্শের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষকের সমস্যা কমানো গেলে তারা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়বে এবং ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার