চলতি অর্থবছরে কার্ড পাবেন ৪০ লাখ নারী

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২২

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রেস কনফারেন্স হয়। 

 


সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে একই সময়ে ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৯ নম্বর ভবনে তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) অডিটোরিয়ামে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সুনামগঞ্জের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য অংশীজন কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এরই অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 


গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাইলটিং পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে বরাদ্দ ছিল ৮৬.৬০ কোটি টাকা; ব্যয় হয়েছে ৬৫.৭৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৫৭.২০ কোটি টাকা।

 


জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২৬—২৭ অর্থবছরে এ জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতার জন্য। বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ করা পিএমটি পদ্ধতিতে দেশের সব পরিবারকে আর্থ—সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী পাঁচটি কোয়ান্টাইলে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) ভাগ করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম হলে নারী পরিবার প্রধান ভাতার যোগ্য বিবেচিত হবেন। সব নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তবে ভাতা পাবেন শুধু প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলভুক্ত (নিম্ন স্কোরপ্রাপ্ত) পরিবারের নারী প্রধানরা।
সোমবার থেকে দেশজুড়ে একযোগে সব এলাকার খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এজন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কাজে নিয়োজিত আছেন ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার; তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

 


কর্মীরা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং তা সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট দেবেন। এ জন্য মোবাইল সিম সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট ও নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) রুম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 


ডিসেম্বর ২০২৬—এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪.৪৫ কোটি পরিবারের (প্রতি পরিবারে গড়ে ৫ সদস্য ধরে) তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর পিএমটি পদ্ধতিতে যোগ্য উপকারভোগী বাছাই করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য নারী পরিবার প্রধানকে এর আওতায় আনা হবে।

 


উপকারভোগীদের দেওয়া কার্ডটি ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধাসম্পন্ন, যা সরকারের ‘টাকাপে’ পেমেন্ট থিমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এই কার্ড দিয়ে ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) থেকে ভাতা তোলা যাবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার