প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৪
সংগৃহীত ছবি
সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দল চাইলে শ্যাডো ক্যাবিনেট বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ ও শরৎ উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক সংস্কার নয়, আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও জরুরি। এসব সংস্কার ছাড়া দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, নীতি ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে। এর মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবে।
তিনি বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে পারেন। যেমন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের বিপরীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতি বিশ্লেষণ করবেন। একইভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলতে এবং বিকল্প প্রস্তাব দিতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা আরও কার্যকর হতে পারে।
১৯৯১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাওয়া যায়নি। বরং সময়ের পরিক্রমায় ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অভাব।
তিনি বলেন, শুধু সরকারের রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেই দেশ এগিয়ে যাবে না। রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হলে আমলাতন্ত্রের সংস্কার করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক সংস্কার হলে চলবে না। আমলাতান্ত্রিক সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন না এলে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।
সংসদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংসদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর আলমগীর প্রমুখ।
সূত্র: যুগান্তর.কম
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন