প্রবাসীর স্ত্রীর খুনীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৭

জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে হত্যার দায়ে জিতেশ চন্দ্র গোপ নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও লাশ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। 

 


মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারের নির্ধারিত সেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিচারিক ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতেও বলা হয়েছে।
রায়ের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত জিতেশ চন্দ্র গোপের বাবার নাম যাদব চন্দ্র গোপ এবং মায়ের নাম অনিতা রানি গোপ। তাঁর স্থায়ী বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। তিনি জগন্নাথপুরের একটি মার্কেটে থাকতেন। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় (দায়রা মামলা নং ৫৬৬/২০২৪) তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

 

 

 

 


রাষ্ট্রপক্ষের মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিহতের ভাই হেলাল আহমদ জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। জিতেশের সঙ্গে নিহতের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তিনি নিহতকে রক্তচাপ মাপাসহ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিতেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহনাজ মুখের অ্যালার্জির দাগ নিয়ে জিতেশের সঙ্গে আলোচনা করেন ও ওষুধের পরামর্শ চান। পরে জিতেশ তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে জিতেশ ফার্মেসিতে ঘুমের ওষুধের ৫—৬টি ট্যাবলেট গুঁড়া করে রাখেন। বিকালে শাহনাজ ওষুধ কিনতে সেখানে গেলে জিতেশ ফার্মেসির পেছনের ছোট কক্ষে নিয়ে তাঁকে স্যালাইন ও কিছু ওষুধ দেন। এরপর গুঁড়া ওষুধ সিরাপের সঙ্গে মিশিয়ে পান করতে দেন। শাহনাজ সেটি ওষুধ মনে করে পান করে ঘুমিয়ে পড়েন। এই সুযোগে জিতেশ বালিশ চেপে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পরে রাতে তিনি বাসা থেকে ছুরি ও পুরোনো লেপ এনে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করেন এবং আলামত গোপন ও নষ্টের চেষ্টা করেন।

 

 


প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার ঔষধ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না। গৃহবধুর ভাই হেলাল মিয়া তাঁর বোন বাসায় ফেরেননি জানতে পেরে ওই ফার্মেসিতে যান বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। তখন ফার্মেসি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে মোবাইলে কল দিলে তিনি জানান, তাঁর বোন ওষুধ না পেয়ে চলে গেছেন। বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে অন্য এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি (নিহত নারী) সিলেট ওসমানীতে আছেন। সেখানে যোগাযোগ করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে শাহনাজের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও শাহনাজের সন্ধান না পাওয়া যায়নি। পরদিন নির্বাহী হাকিম জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামের উপস্থিতিতে জগন্নাথপুর থানার পুলিশ তালাবদ্ধ ফার্মেসির তালা ভেঙে দোকানে অভিযান চালায়। এসময় দোকানের রোগী দেখার টেবিলের নিচে বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ওই নারীর শরীর ছয় টুকরা খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল মিয়া বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে ঘটনার পর জিতেশ পালিয়ে যায়। জিতেশ চন্দ্রকে ঢাকা থেকে সিআইডি গ্রেপ্তার করে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার