প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৫
সংগৃহীত ছবি
ভালো আইনজীবী হতে হলে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছু ছাড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ করেও পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় অনেককে। তাই পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত ‘কনভোকেশন অ্যান্ড ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ ইন্টার্ন নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বাছাইয়ের চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন বিষয়ে স্নাতক করা সবাই আইনজীবী হবেন, এমন নয়। তাদের কেউ বিচারক হবেন, কেউ করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, আবার কেউ অন্য পেশায় যাবেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারলে তা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে বড় সম্পদ হয়ে থাকবে।
আইন পেশার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কথা উল্লেখ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ আইনজীবীদের প্রতিনিয়ত নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শুধু আইনের তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, আদালতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও শিখতে হবে। মানবাধিকার কমিশন আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ও সাইবার আইন সংশোধনের মতো বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণদের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, শুধু আইনের ধারা জানা কিংবা মুখস্থ করলেই ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না। অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। হত্যা মামলায় শারীরস্থান সম্পর্কে ধারণা কাজে লাগে, আবার আর্থিক বিরোধের মামলা পরিচালনায় প্রয়োজন অর্থনীতির জ্ঞান। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি দূর করার পথ দেখান আইনজীবীরা। এ কারণে তাদের সামাজিক প্রকৌশলীও বলা হয়।
আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কর্মজীবনের শুরুতে অনেক আইনজীবীকে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হয়। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও কাজের পরিধি বাড়লে আয়ও বাড়ে। বিচারপতি মোস্তফা কামালের ব্যাখ্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আইনজীবীদের কর্মজীবনের পাঁচটি পর্যায়ের কথা বলেন- কাজ নেই, পারিশ্রমিক নেই; কিছু কাজ, পারিশ্রমিক নেই; কিছু কাজ, কিছু পারিশ্রমিক; বেশি কাজ, বেশি পারিশ্রমিক; এবং শেষ পর্যায়ে কাজ কমলেও আয় বেশি হওয়া।
আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মো. আসাদুজ্জামান। তার মতে, সমাজে আইনজীবীদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা তৈরি করতে হবে। একজন আইনজীবীর পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার মাধ্যমে।
পেশাগত সততা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভালো যুক্তি উপস্থাপন কিংবা আইনের গভীর জ্ঞান থাকলেই কাউকে ভালো আইনজীবী বলা যায় না। মক্কেলের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়া কিংবা বিচারকের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের কথা বলে অর্থ আদায়ের মতো অনৈতিক চর্চা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিচারকদের অসদাচরণের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনজীবীদের আচরণবিধিরও যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সব মক্কেলের পক্ষে আইনজীবীর পারিশ্রমিক দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের আইনি সহায়তায় আইনজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। একজন আইনজীবীকে ভালো পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: কালবেলা .কম
এমডি
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন