মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০০

ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ফজলুর রহিম কাজলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামের একটি নির্জন স্থানে গাছের মগডাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার। এ ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কাকিয়াম গ্রামে কাজলের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন কাজলের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাজলের মা মনোয়ারা বেগম, স্ত্রী নাজমা আক্তার, ছেলে মাহমুদুল হাসান রাহুল ও মারুফ হাসান রনক এবং মামা নজমুল ইসলাম আহমদ।

 


পরিবারের দাবি, কাজলের মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছের ডালে তুলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ। পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে কাজল কীভাবে, কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে মারা গেলেন তা নিয়ে রহস্য কাটেনি।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকালে বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হন কাজল। এরপর তাঁর আর কোনো খেঁাজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

 

পরিবারের সদস্যরা তাঁর সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ওই দিন রাতেই তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামের একটি নির্জন স্থানে গাছের মগডালে কাজলের মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখেঁাজ হওয়া এবং পরে অন্য উপজেলার একটি নির্জন স্থানে গাছের মগডালে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি পরিবারের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। তবে নিখেঁাজ হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছালেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা পরিবারের কাছে।

 


গাছের মগডাল থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি স্বজনদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, কাজলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে তুলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, মৃত্যুর আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি।
কাজলের স্ত্রী নাজমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীকে আর ফিরে পাবোনা। কিন্তু কেন আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, কে বা কারা এর সাথে জড়িত এর উত্তর জানা জরুরি। পুলিশ এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিবে প্রত্যাশা করি।

 

 


কাজলের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে তাদের একবার দেখতে চাই। তাদের জিজ্ঞেস করতে চাই আমার ছেলে তাদের কি ক্ষতি করেছিল।  
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার