সংকট নিরসনে নানা উদ্যোগের কথা জানালেন তত্ত্বাবধায়ক

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০২

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, অচল অ্যাম্বুলেন্স, বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাফি ও ডায়ালাইসিস সেবার সীমাবদ্ধতায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৯০০ জনের বেশি রোগী আসছেন। অথচ অনুমোদিত ৭৪টি চিকিৎসক পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪৯টি। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

 


হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট, রোগীদের ভোগান্তি এবং সমাধানে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামায়’ কথা বলেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহযোগী সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৯০০ জনের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। বর্তমান জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে এই চাপ সামলানো কতটা সম্ভব?
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ: হাসপাতালটি প্রায় ২৮ থেকে ৩০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। জেলা সদর হাসপাতাল হিসেবে এখানে দ্বিতীয় স্তরের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। রোগীদের পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্বজন হাসপাতালে আসেন। তাঁদের চলাচল, শৌচাগার ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় সামলাতে সীমিত জায়গা ও জনবল নিয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। তারপরও সেবার মান উন্নয়নে আমরা কাজ করছি।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বড় একটি অংশ শূন্য। এই সংকট নিরসনে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ: চিকিৎসক, নার্স এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদেও ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসকদের নিয়োগের বিষয়টি মূলত সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। শূন্যপদ পূরণে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বদলির মাধ্যমে চিকিৎসক আনার বিষয়েও যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যও হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অ্যাম্বুলেন্স অচল এবং আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা বন্ধ। এসব জরুরি সেবা চালুর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ: আলট্রাসনোগ্রাফি, প্যাথলজি ও এক্সরের মতো কারিগরি সেবায় দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে প্যাথলজিস্টের পদে নিয়োগ না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কিছু সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ডায়ালাইসিস ইউনিটে পাঁচটি মেশিনের মধ্যে দুটি অচল। পূর্ণ সক্ষমতায় সেবা দিতে প্রধান বাধা কী?
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ: ডায়ালাইসিস, আইসিইউ ও সিসিইউর মতো বিশেষায়িত সেবা চালাতে প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। ডায়ালাইসিসের জন্য কিডনি বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মী দরকার। হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল কাঠামোয় এসব পদ ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া মেশিন নষ্ট হলে মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে সচল মেশিনগুলো দিয়ে যতটা সম্ভব রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: হাসপাতালে ওষুধ ও পথ্য না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ: ওষুধ ও পথ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে সরবরাহ করা ওষুধে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যে পরিমাণ রোগীর জন্য ওষুধ বরাদ্দ থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি রোগী আসায় সংকট তৈরি হয়। সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আগামী ছয় মাসে হাসপাতালের কোন সমস্যাগুলো সমাধানে অগ্রাধিকার দিতে চান?
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ: হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অ্যাম্বুলেন্স ও লিফট সচল রাখা, জনবল সংকট কমানো এবং ওষুধ ও পথ্যের বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে। লিফটের সমস্যা সমাধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নতুন লিফট দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। হাসপাতালের ভবনে র‌্যাম্প স্থাপনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্যাথলজি ও অপারেশন থিয়েটারের সেবা দুই শিফটে চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


তিনি আরও জানান, হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের জন্য বসার জায়গা, শৌচাগার ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা করা হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই সিলেটে পাঠাতে হয়। ভবিষ্যতে সুনামগঞ্জেই আরও বেশি রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি?
ডা. আশরাফুল ইসলাম সোহাগ: কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে পাঠানোও চিকিৎসাসেবার অংশ। তবে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আরও বেশি রোগীকে এখানেই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও স্ট্রোকের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সিটিস্ক্যানসহ উন্নত চিকিৎসাসুবিধা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে রোগীদের সুনামগঞ্জেই চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ বাড়বে।

 


সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ নোংরা না করার দায়িত্ব সবার। কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সহযোগিতা ছাড়া হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়ন করা কঠিন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার