প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২২
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে ছাতকে। মণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জা আর প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা শেষ হলেও কারিগরদের মনে নেই স্বস্তি। উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে প্রতিমাশিল্পীদের কণ্ঠে এখন তীব্র আর্থিক অনটনের সুর। তাদের অভিযোগ, দিন দিন উপকরণের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি পারিশ্রমিক। এ কারণে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত এই মৌসুমেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জানা গেছে, এ বছর ছাতক পৌরসভার মণ্ডলীভোগ, ঘোষবাড়ি, মহামায়া, নাথপাড়া, দাসপাড়া ও শ্যামপাড়া এলাকায় ১২টি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৮টিসহ মোট ৩০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ছাতকের ছয়টি ও কোম্পানীগঞ্জের ছয়টিসহ মোট ১২টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী মন্টু কুমার রুদ্র পাল। তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন দুই ছেলে শংকর পাল ও সন্তোষ পালসহ একদল কারিগর। মন্টু কুমার রুদ্র পাল বলেন, বছরের এই সময়ের আয় দিয়েই মূলত আমাদের সংসার চলে। বাকি সময় অন্যান্য পূজার প্রতিমা তৈরি করে কোনো রকমে দিন কাটাতে হয়। কিন্তু দিন দিন মাটির কাজের উপকরণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। অথচ সেই তুলনায় প্রতিমা তৈরির পারিশ্রমিক বাড়ছে না। ফলে আগের মতো আয় না থাকায় সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
একই কথা জানান মণ্ডলীভোগে প্রতিমা তৈরিতে নিয়োজিত বলরাম পালের ছেলে মিন্টু পাল। তাঁরা ছাতকের চারটি এবং দোয়ারাবাজারের ছয়টিসহ মোট ১০টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছেন। মিন্টু পাল আক্ষেপ করে বলেন, আগে এই মৌসুমের আয় দিয়ে সংসার মোটামুটি ভালোভাবে চললেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। উপকরণের দাম বহুগুণ বাড়লেও ক্রেতারা সেই অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে চান না। পরিশ্রম বাড়লেও আয় কমে গেছে।
তিনি জানান, পরিবারের তাগিদে দুর্গাপূজা শেষে তাঁকে ঢাকার বিক্রমপুরে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে যেতে হয়। অন্যদিকে তাঁর বাবা ও ভাই সারাবছর প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি বাড়িতে দই তৈরি করে বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন।
প্রতিমাশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিল তিল করে দেবী মূর্তি ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়, কঠোর শ্রম ও সুনিপুণ অভিজ্ঞতা। বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি, মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং করা এবং শেষ পর্যায়ে নিখুঁত অলংকরণের কাজ করতে হয়। শিল্পীদের এই নিপুণ ছোঁয়ায় সাধারণ মাটি রূপ নেয় আরাধ্য দেবীর প্রতিমায়। অথচ এই শৈল্পিক মেহনতের যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না কারিগররা।
ঘোষবাড়ী মণ্ডপে প্রতিমা দেখতে আসা নবজ্যোতি চক্রবর্তী মোহন বলেন, শিল্পীরা অত্যন্ত নিপুণ হাতে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেছেন। প্রতিমার সাজসজ্জা ও কারুকাজে তাঁদের অসাধারণ দক্ষতা ফুটে উঠেছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের প্রত্যাশা করছি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ছাতক উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবুল রায় জানান, দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। পূজামণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় আয়োজন সম্পন্ন করার পাশাপাশি উৎসবের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আয়োজকেরা নিরলস কাজ করছেন। সবার সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছাতক সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মো. মুরসালিন জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন