প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৪
শরতের শারদোৎসব মানে বাঙালির কল্পনায় নীলাভ আকাশ। উড়ন্ত ধবল মেঘ। ধবধবে কাশবন। শিউলির গন্ধের মুগ্ধতা কিংবা ভোরের শিশির। জলাশয়ে ফোটা পদ্মের কথা বাদ দিলেও এককথায় প্রকৃতির একরাশ মাধুর্য্যতায় জাগিয়ে তোলে— এই বুঝি এলো শারদোৎসব। স্মৃতিতে শৈশবের গানের ছত্রগুলোও হয়ে ওঠে একাকার।
“সোনালী শরৎ চোখে, স্বপন যে জাগলো
মেঘ মেঘ ঝিকিমিকি ছায়া এসে লাগলো\
বাতাসেও নিঝুম, চোখ জোরে আয় ঘুম
নিঝুম পরীর দেশে ঘুম আজি ভাঙলো”\
তবে উত্তর আমেরিকার কানাডাতে শরতে পা না রাখলে ম্যাপল, লার্চ গাছের পাতাও যে বলে বেড়ায় বর্ণিল শরৎ শারদের কথা তা ভাবা যেতো না। তাইতো বাঙালি পুত্র রবি ঠাকুর শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধির এই ঋতুর সঙ্গে দুর্গাপূজার সম্পর্কে লিখেছেন— “আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা; নবীন ধানের মঞ্জরী দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা\ এসো গো শারদলক্ষ্ণী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে, এসো নির্মল নীলপথে।’’ আর কবি নজরুলের কথা কি বলবো ! তিনি তো দুর্গাকে দেশমাতা হিসেবে ‘আনন্দময়ীর আগমন’ লিখে ব্রিটিশ বিরোধিতার জন্য জেলই খেটেছেন।
দুর্গাপুজার ইতিহাস মেঘালয়ের পাদদেশে নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের দিকে না আগালেও হাওরের রাজধানী হিসেবে খ্যাত সুনামগঞ্জের ছায়ার হাওর, কালিয়াগুটা হাওর, শনির হাওর, দেখার হাওর, রবাম হাওর ঘেঁষা গ্রামগুলোর পূজার স্মৃতি ঝলঝল করে উঠেছে। সেই হাওরের আঙ্গারুয়ার শৈশবের গ্রামের পূজার স্মৃতি এখনো আকঁড়ে ধরে। সেই দুর্গাপূজা বসন্তের ফাল্গুন—চৈত্রে হতো বলে বাসন্তীপূজা নামে পরিচিত। গ্রামগুলোতে ইষ্টিকুটুমের রবরব ভাব জমে উঠতো। ফাল্গুনের শেষ সোমবার স্থানীয় লোকাচার দেবী হোমিঠাকুরাইনের মেলা, চৈত্রের প্রথম রবি ও সোমবার সোমেশ্বরী দেবীর মেলা আবার শেষ সোমবার বেইট্টানের মেলার (মহিলা) কারণে রবরব ভাবটা আরো জোরালো হয়ে উঠতো। গ্রাম্য সমাজে চৈত্রের শেষ নিদানে অভাব যতোটুকু না তার চেয়ে বেশি মনের সুখের ছাপ চোখে লাগত। ইষ্টি—কুটুমরা যেন বাড়িতে ফেরত না যায় এক ঘরের মানুষ অন্য ঘরের মানুষদের খোঁজ—খবর নিতো। পূজার ষষ্ঠী হতে দশমী পর্যন্ত একটানা যাত্রা চলতো। বড় বড় ধানের গোলা (ক্বারী/জাখন) খালি হলে ছায়াঘর/ লাকাড়িঘর/ বাড়বাড়ি এমনসব ঘরের বেড়া উঠিয়ে খোলা মাঠের ন্যায় যাত্রা প্যান্ডেল চলতো। এখনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের এতো অনুমতির প্রচলন ছিল না। বরং রাতে যাত্রা দেখতে ওরা আনন্দ উপভোগে সামিল হতো। পূজার বিভিন্ন পিরিয়ডে শুভক্ষণ বুঝাতে আতশবাজি চলতো। সন্ধ্যা আলতীতে নিজ গ্রাম, প্রতিবেশী গ্রামের কীর্তনীদের বিরাট প্রতিযোগিতা চলতো। কোন কোন সময় আগেই নিমন্ত্রন দিয়ে জানানো হতো। এক পক্ষ তাঁদের আলতি প্রদর্শন শেষ করতে না করতে আরেক পক্ষ তৈরি থাকতো। তৃষ্ণার্তদের জন্য জগ ভর্তি জল নিয়ে একজন দাঁড়িয়ে থাকতো আর গুড়ের চা’র আহারে তৃপ্তি! মুরব্বিদের জন্য সুরট—বিড়ি, হুক্কা সহ পান— সুপারি তো আছেই। এখনো চোখে ভাসছে পাশ^র্বর্তী এলাকার ছামের আলী ভাই, গালু চাচা ওরা পূজার প্রসাদ, আলতী, যাত্রা একনিষ্ঠতার সাথে উপভোগ করতো। নতুন পোশাকের বাহার তেমন একটা প্রচলন না থাকলেও যার যা আছে তাহাতেই পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতার একটা আমেজ সারা গ্রামদিঘালে (সর্বত্র গ্রাম) দেখা যেতো। তখনো আজকের সর্বজনীন দুর্গাপূজার চেয়ে—
‘ঘরে ঘরে বিষহরিপূজা,
ধনীর ঘরে দুর্গাপূজা’
এমন রেওয়াজের প্রচলন ছিল।
আবহমান গ্রামবাংলায় দু্র্গা বিভিন্ন লোকায়ত রূপে গৃহীত ও সমাদৃত। যেমন, ফসলের দেবী শাকম্ভরী, মহামারী ও কীটপতঙ্গ দমনকারী ভ্রামরী, খরা দূরকারী শতাক্ষী। এসবই আবহমান গ্রামবাংলার চিত্রই তুলে ধরে। দু্র্গাপূজার অনুষঙ্গে প্রাচীন বাংলা তথা ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও লোকজ উপাদান যুক্ত হয় কালে কালে। নারীর সাম্য ও সম্মানে নবকন্যা’র মাটি (৯ শ্রেণীর নারীর দ্বারের মাটি), নবরাত্রিকা (কলাবউ— যেমন— কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, অশোক, বেল, ডালিম, মানকচু, ধান), একচালা কাঠামো, বহুরূপ ভূজা, ভিন্ন ভিন্ন বাহন সহ বাংলায় ‘একচালা' কাঠামোয় ‘সিংহবাহিনী মহিষাসুরমর্দিনীরূপে’ প্রতিমা নির্মাণ করে দুর্গাপূজার রীতি শুরু হয় রাজা কংসনারায়ণের হাত ধরে। একচালা প্রতিমা মানে হলো একই কাঠামোর মধ্যে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও তাঁদের বাহক সহ সপরিবারে দুর্গার প্রতিমা তৈরি করে পূজো করা। পিছনে প্রতিমার ‘চালি’তে নানারকম নকশা ও পৌরাণিক ছবি চিত্রিত হতো। এই একচালা কাঠামো বাংলার একান্নবর্তী যৌথ পরিবার কাঠামোকে নির্দেশ করে। এছাড়াও দুর্গাপূজায় অশ্বত্থ, বট, যজ্ঞডুমুর, পদ্ম, অতসী ফুল, আমের শাখা, অপরাজিতা লতা, বেলপাতা, তুলসীপাতা প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়। আরও ধান, দুর্বা, তিল, সরিষা, হরতকী, পান, সুপারি, চাল, যব, কলাই, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফল, ফুল, অন্ন, ব্যঞ্জন, মিষ্টান্ন, দুধ, দই, ঘি, ফুট খই (ধানের), কাঠ, চন্দন, সিদ্ধি, মাটি, বালি, জল ইত্যাদি সবই দেবী দুর্গার পূজায় সমাদরে আহৃত ও ব্যবহৃত হয়। এই সবকিছুই ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ—পূর্ব এশিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চল বিশেষ করে গাঙ্গেয় বদ্বীপ তথা প্রাচীন বাংলার চিরন্তন কৃষি—সম্পদ—নির্ভর সমাজব্যবস্থার প্রকাশক।
‘দু্র্গা’ শব্দটি দুর্গ থেকে আগত। পুরাণমতে দুর্গ নামক অসুরকে বধ করার জন্য তিনি দুর্গা। দু্র্গা শব্দের শাব্দিক অর্থ হল ‘অপরাজেয়’, ‘দুর্গম’। আবার দুর্গতিনাশিনী অর্থেও দুর্গা শব্দটি ব্যবহৃত হয়। শশীভূষণ দাশগুপ্ত ভারতীয় শক্তি সাধনার গবেষণা দুর্গা শব্দের উৎপত্তির স্তরগুলো পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন। তাঁর মতে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত হলো— দুর্গা হলেন ‘দু্র্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী’ অর্থাৎ, দুর্গের রক্ষাকর্ত্রী। দুর্গা বিভিন্ন স্থানে তিনি বিভিন্ন নামে পূজিত হন। কখনো তিনি বাসন্তী, চণ্ডী, কখনো কালী/চামুণ্ডা, কখনো মহিষাসুরমর্দিনী, কখনো পার্বতী, কখনো বিন্ধ্যবাসিনী, কাত্যায়নী, মহালক্ষ্মী, ভৈরবী, ত্রিপুরসুন্দরী, বৈষ্ণবী, বিশালাক্ষী, তারা, জয়ন্তী, বর্গভীমা, বিরজা, বিমলা, মীনাক্ষী, কামাখ্যা, জ্বালাদেবী, কন্যাকুমারী প্রভৃতি বহুনামে পরিচিতা।
দুর্গাপূজার ইতিহাস সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত ভাবে বলা দুষ্কর। নানান রূপ চেতনায়, নানা উপাচারে, শরতে বা বসন্তে বাঙালি, ওড়িয়া, মৈথিলী ও অসমীয়া, ত্রিপুরা জাতি ছাড়াও আরো কিছু জাতিতে হয়ে থাকে উপাসনার আয়োজন। যতোটুকু জানা যায়, কোন ইতিহাসবিদ বা সমাজবিজ্ঞানী দুর্গোৎসব উদ্ভবের ইতিহাস ও আনুষঙ্গিক ঘটনাপঞ্জি নির্ভরযোগ্য দলিলপত্র ঘেঁটে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হননি। তবে পুরাণ, মহাভারত, রামায়ন, ধর্মীয় কাব্য, নানা ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও সূত্র থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। মোটামুটিভাবে দুর্গাপূজার ইতিহাস ১৫০০ বছরের পুরোনো। কারো কারো লেখাতে আরো বেশি। গুরুত্বপূর্ণ দেবী হিসেবে দু্র্গার আবির্ভাব হয় বৌদ্ধ ধর্ম পরবর্তী যুগে। একাদশ শতাব্দীতে মাটির মূর্তি গড়ে দুর্গপূজার বিধান চোখে পড়ে। বাংলায় রাজশাহী জেলার তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ রায় শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু করে। এটা মুঘল সম্রাট আকবরের আমলের ঘটনা, সম্ভবত ১৫৮০/১৫৮২ সালের শরৎকালে। সে হিসেবে বাংলার দুর্গাপূজার ইতিহাস মোটামুটি ৪০০ বছরের পুরোনো।
কবি কৃত্তিবাস ওঝা’র রামায়ন হতে কবি বিদ্যাপতি, পণ্ডিত ভবদেব ভট্ট, স্মার্ত রঘুনন্দন, যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি, ইতিহাসবিদ রামপ্রসাদ চন্দ,শশীভূষণ দাশগুপ্ত তাঁদের মতামত সহ উৎস ও পূর্বপুরুষদের উৎসব প্রচলন, পালন লক্ষ্য করলে দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্গোৎসব ষড় ঋতুর শরৎ কাল ও প্রায় হিমালয় কেন্দ্রিক। তবে আদিতে দূর্গাপূজা বসন্তকালে হতো, মার্কণ্ডেয় পুরাণে সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্যের পূজার কথা বসন্তকালে বলা আছে বলে কারো কারো লেখাতে পাওয়া যায়।
তথ্য বলছে সারা বিশ্বে প্রতিবছর বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশে দুর্গাপ্রতিমা যোগান দিয়ে থাকে কলকাতার কুমারটুলি। বর্তমান বিশ্বায়নে হিমালয়ের পার্বতী এখন মহাদেশে মহাদেশে। লন্ডনের ক্যামডেন থেকে নিউ জার্সি, টরন্টো—মন্ট্রিয়ল থেকে সিডনি, দুবাই থেকে টোকিও— বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের পুজোর নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। কর্ম জীবন, ভৌগোলিক অবস্থান গতকারণ, সাপ্তাহিক শেষান্তের ছুটির সুবিধায় পূজার কাললক্ষন একটু এদিক—সেদিক করেও তিথিকে লক্ষ্য করে মাটির প্রতিমা, অনেকক্ষেত্রে শোলার বা ফাইবারের প্রতিমা, পশ্চিমা ধারণায় পোটলাক ভোগ, আর প্রজন্মান্তরের শিকড়—সন্ধানে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠে। ইউরোপের প্রাচীনতমগুলির একটি, মাল্টি জাতিগোষ্ঠীর লন্ডনের পুজো (১৯৬০—এর দশক); আমেরিকায় শতাধিক; আর ওড়িয়া, মৈথিলী ও অসমীয়া, ত্রিপুরা জাতি ছাড়াও অনেক প্রবাসীরা জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত, ইথিওপিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, মরিসাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে না হলেও নিজস্ব ভাবগাম্ভীর্যে শারদ দুর্গাৎসব করে থাকে।
বর্তমানে বহুল প্রচলিত পূজা পদ্ধতি স্মার্ত রঘুনন্দন নির্দেশিত। রঘুনন্দন গ্রন্থগুলিতে দুর্গোৎসবের সাতটি কল্পের বিধান দিয়েছেন। তাঁর মতানুসারে ষষ্ঠ্যাদি কল্পে ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় বেলগাছের তলায় দেবীর বোধন সম্পন্ন হয়; তারপর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ওই দিনের পূজা হয় ঘটে। পরের দিন অর্থাৎ সপ্তমী থেকে নবমী অবধি মৃন্ময়ী প্রতিমায় পূজাপাঠ হয়। দুর্গোৎসবের সকল তিথির পূর্বে ‘মহা’ বিশেষণটি যোগ করা যায় না। যেমন— ‘মহাষষ্ঠী’ ও ‘মহাসপ্তমী’ কথা দুটি মোটেও শাস্ত্রসম্মত নয়। রঘুনন্দনের মতানুসারে কেবল অষ্টমী ও নবমী তিথি দুটি এই অভিধা পেতে পারে, অর্থাৎ মহাষ্টমী ও মহানবমী। তিনি বলেছেন— “মহাবিপত্তারকত্বাদ্ গীয়তেহসৌ মহাষ্টমী। মহাসম্পাদ্দায়কত্বাৎ সা মহানবমী মতা”। অর্থাৎ মহাশক্তি দুর্গার আবির্ভাবে মহাবিপদ কেটে গেলো বলে অষ্টমী তিথির নাম হলো মহাষ্টমী এবং মহাসম্পদ লাভ হলো বলে নবমী তিথি হলো মহানবমী।
২০০৯ সালের কথা। খুব সম্ভবত সেপ্টেম্বর—অক্টোবর মাস। তাপমাত্রা নিম্নগামী। ইংল্যান্ডের লন্ডনে প্রথম দুর্গাৎসব উপভোগ। ফ্রি নয়; পাঁচ পাউন্ড প্রবেশ ফি (চাঁদা) দিয়ে পূজামন্ডপে প্রবেশ। মূল কাঠামের প্রতিমা; প্রবেশ স্থল ও মন্ডপের পূজার্থীদের মাথাস্থ উঁচু জায়গায় অবস্থান। পূজোর প্রসাদ লাবরা—খিচুড়ি নয়; আধুনিকতার ছোঁয়ায় স্বচ্ছ ঝকঝকে শুকনো ফল আর নকুলের প্যাকেট। সুরম্যহলটিও মণ্ডপ হিসেবে আধুনিকতার চাকচিক্য বিরাজমান। হয়তো অতিশীতের প্রকোপে বা মন্ত্রপাঠে দেহশুদ্ধি হয়ে যাবে যুক্তিতে পোশাক পরিচ্ছদের ন্যায় জুতা না খোলে পুষ্পাঞ্জলি। কারণ শাস্ত্রে আছে— “মানুষ পবিত্র বা অপবিত্র হোক, কিংবা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, যিনি পদ্মলোচন শ্রীবিষ্ণুকে স্মরণ করেন, তিনি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ভাবেই পবিত্র হয়ে যান। অর্থাৎ “ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা। যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্য অভান্তরে শুচিঃ”।
শরৎ শিখায় হাবুডুবু কানাডা। নগর হতে গ্রাম।
রঙিন পাতায় ছেয়ে গেছে গাছ। গাছে গাছে যেন অদ্ভুত লাবণ্যের উপস্থিতি। লার্চের পাতাগুলো উজ্জ্বল সোনালী—হলুদ রঙের বিলাসিতায়, ম্যাপলরা কমলা—হলুদ লালচে সিঁদুর রঙে মগ্ন। চারদিকে রঙিন আবহ। রঙের ছড়াছড়িতে যেন রঙের জাদুকরী মেলা। যেন শিল্পীর তুলির কারুকার্যের রঙ পরতে পরতে। প্রকৃতি অপরূপ সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়ে উঠেছে। এই ভাবে শরৎ আসে দেশ বিদেশে; ব্রহ্মান্ডের নানা জায়গায় নানা প্রান্তে। প্রকৃতি যেমন শরতের রঙের ছোঁয়ায় রাঙ্গা হয়ে ওঠে তেমনি শরৎ এলেও মানুষের মন শরতের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। রঙের আঙিনায় দিগ্বিদিক হয়ে ওঠে আনন্দ আবেশে।
আকর্ষণীয় শারদীয় রঙ, মনোরম আকারের কারণে দিগন্তরেখা সাজানোর কাজে ব্যস্ত। শরৎ শিউলির ন্যায় লিলি, প্যানজি বা চন্দ্রমল্লিকারা আজ শিশির সিক্ত। আবহমান বাংলার শাকম্ভরী,বসন্তের বাসন্তী, শরতের শারদা, হিমালয়ের পার্বতী আজ কানাডায় শরতের ম্যাপল, লার্চ পত্রের রঙেশোভিত। যেন একচালা প্রতিমা কাঠামে গহনায় লার্চের উজ্জ্বল সোনালী—হলুদ রঙে আর ম্যাপলের কমলা হলুদ লালচে সিঁদুর রঙে দুর্গা শান্তি, সহনশীলতা আর শাশ্বত সুন্দরের প্রতীক হয়ে পশ্চাৎপদতা ও কূপমণ্ডুকতা সকল অশুভ শক্তির প্রতিহতের প্রতীক।
লেখক— সাংস্কৃতিক কর্মী, সেইন্ট ক্যালিক্সট, কানাডা
উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন