প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪৪
এমপি কয়ছর আহমদ
সুনামগঞ্জ—৩ (জগন্নাথপুর—শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, আমাদের সরকার প্রধান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রম্নতি বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ডের সেবা এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। নির্বাচনের সময় একটি গোষ্ঠী ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অপপ্রচার করেছিল, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি প্রতারণা করে না, যা বলে তা বাস্তবায়ন করে। জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় প্রজেক্ট এর আগে আর কোনো সরকার গ্রহণ করতে পারেনি। এটি একমাত্র তারেক রহমানের কারণেই সম্ভব হয়েছে।
শনিবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ’ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি কয়ছর আহমদ আরো বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী দেশের উপকারভোগী পরিবারের প্রধান নারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। সততা আর স্বচ্ছতার সাথে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আহ্বান জানান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এমএ মুকিত, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহীন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান এবং জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি তাজউদ্দিন আহমদ প্রমুখ।
এদিকে শনিবার বিকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীর প্রশিক্ষণ পরিদর্শনের সময়
সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড’ ছিলো বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। যা আজ বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। এমনকি ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। অথচ যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্ডের কথা বলেছিলেন তখন বিরোধী রাজনীতিকেরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে হাস্যরস করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান যা বলেন তা করে দেখান। তিনি জনগণের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেন। দেশের জন্য কাজ করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে তিনি বলেন, টাকা পয়সার কোনো লেনদেন হয় না। কেউ এসব করবেন না।
তরুণদের উদ্দেশ্যে কয়ছর বলেন, সরকার অনলাইন জুয়া ও মাদক প্রতিরোধে জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনাও দেওয়া আছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার সবচেয়ে বড় বাজেট দিয়েছে। আমরা সরকারের সাথে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই। সকলে সহযোগিতা মূলক মনোভাব দেখাবেন প্লিজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা। সমাজসেবা কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার লিমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি জালাল উদ্দিন, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া।
এসময় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলহাজ্ব মল্লিক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলি উল্লাহ, জেলা বিএনপির অপর সদস্য নূর আলী, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম—আহ্বায়ক রওশন খান সাগর, যুগ্ম—আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাবুল, আবুল কাশেম নাঈম, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমীন, বিএনপি নেতা আকিকুল ইসলাম আকিক সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ধাপে ৫ জন সুপারভাইজার, ৪৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার লিমা। প্রশিক্ষণে সকল প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সরকারি ট্যাব তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন