প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:২২
সংগৃহীত
সারাদিন আমাদের দেহে রক্তে শর্করার মাত্রা একই থাকে না। এটি খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুমের ধরন ও মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে কমবেশি হতে পারে। এ কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে বিশ্বে ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায়ই বাড়ছে। এর ফলে অনেকেই বাড়িতে গ্লুকোমিটার রেখে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করেন। তবে দিনের কোন সময়ে শর্করার মাত্রা কত থাকা স্বাভাবিক, তা জানে নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন ভারতের কলকাতার অভিজ্ঞ ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজম রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আশিস মিত্র।
রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরীক্ষা হলো ফাস্টিং ব্লাড সুগার (এফপিজি) ও পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল ব্লাড সুগার। ফাস্টিং ব্লাড সুগার পরীক্ষা করতে অন্তত আট ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এ পরীক্ষার মাধ্যমে খাবার গ্রহণ না করার অবস্থায় শরীর কীভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা খাবারের পরের রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হয় খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। এ পরীক্ষায় খাবার থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ শরীর কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তা বোঝা যায়।
গ্লুকোমিটারে কোনটি স্বাভাবিক মাত্রা? এর তালিকা দিলেন চিকিৎসক —
• খালি পেটে ব্লাড সুগার যদি ১১০-এর নীচে থাকে, তাহলে তা স্বাভাবিক। ১১০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস। আর ১২৬ ছুঁয়ে ফেললে তা ডায়াবেটিস, অর্থাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
• মূলত মধ্যাহ্নভোজের দু’ঘণ্টা পরে পরীক্ষা করেন রোগীরা। খাওয়ার পরে যদি ১৪০-এর নীচে থাকে, তা হলে তা স্বাভাবিক। ১৪০ থেকে ১৯৯-এর মধ্যে থাকলে তা প্রি-ডায়াবেটিস এবং মাত্রা ২০০-র বেশি থাকলে তা ডায়াবেটিসের সংকেত দেয়।
• সুগারের মাত্রার গত তিন মাসের গড় অর্থাৎ এইচবিএ১সি রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। সে ক্ষেত্রে ৫.৭ শতাংশ স্বাভাবিক, ৫.৭-৬.৪ শতাংশ প্রি-ডায়াবেটিস এবং ৬.৫ শতাংশে পৌঁছে গেলে তা ডায়াবেটিস।
ডা. আশিস মিত্রের পরামর্শ অনুযায়ী, খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ৯০ থেকে ১১০ এবং খাবার খাওয়ার পর ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। তবে যারা বাড়িতে গ্লুকো মিটারের সাহায্যে সুগার পরীক্ষা করেন, তাদের শুধু দিনে একবার পরীক্ষা করলে চলবে না। বরং বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা করে রক্তে শর্করার ওঠানামার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কারণ, কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ভরা পেটে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু এইচবিএ১সি ৬.৫ শতাংশের বেশি।
তিনি বলেন, এটা কেন হয়? যদি কেবল মধ্যাহ্নভোজের পর সুগার চেক করেন, তাহলে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না। হয়তো বা প্রাতরাশ বা নৈশভোজের পর সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু পরীক্ষা করেন না বলে জানতে পারেন না। এমনও হতে পারে, সুগার কমে গিয়ে খিদে পাচ্ছে, তখন পেট ভরে খাবার খেয়ে নিচ্ছেন, আর সেই সময়ে সুগারটা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। তাই প্রত্যেকবার খাবার খাওয়ার দু’ঘণ্টা পর কিংবা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভোজের পর সুগার মাপা উচিত, কেবল এক বেলা নয়। তা হলেই সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।
তা ছাড়া হাইপোগ্লাইসেমিয়া অর্থাৎ সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা নিয়েও সতর্ক থাকা উচিত বলে মত চিকিৎসক। তিনি জানাচ্ছেন, ৭০-এ সুগার নেমে গেলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া। তাই ৮০-র উপরে রাখা দরকার সব সময়ে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন