প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:১০
তাহিরপুরের পল্লীতে ৪ সহোদরের অত্যাচারে বড় ভাই আব্দুল হেকিম এক বছর ধরে বাড়ি ছাড়া। এ নিয়ে আব্দুল হেকিম তাহিরপুর থানাতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোন সমাধান হয়নি। জানা যায়, উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের রুস্তম আলীর ৫ পুত্র। তারা হলেন,আব্দুল হেকিম,আব্দুল হেলিম,সেলিম হায়দার,আব্দুল করিম ও খুর্শিদ মিয়া। আব্দুল হেলিম, সেলিম হায়দার সহ দু’বোনের সম্পত্তি বড় ভাই আব্দুল হেকিমের নিকট সাফকাবলামূলে ২০০১ সালে বিক্রি করে দেয়। বিক্রির পর থেকেই আব্দুল হেকিম শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত সম্পত্তি ভোগদখলে ছিলেন। ভোগ দখলকৃত জমির মধ্যে ১০ কিয়ার জমি(৩০ শতকে এক কিয়ার), একটি গভীর নলকূপ, একটি বড় পুকুর ছিল। উক্ত সম্পত্তি বিগত এক বছর ধরে চার সহোদর যথাক্রমে আব্দুল হেলিম, সেলিম হায়দার, আব্দুল করিম, খুর্শিদ মিয়া তাদের দখলে নিয়ে ভোগ দখলে আছে। এমনকি তাদের বড় ভাই আব্দুল হেকিমকে বিভিন্ন ধরনের মারধরের হুমকি দেয় তারা। এমতাবস্থায় বড় ভাই আব্দুল হেকিম প্রাণভয়ে একই গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বছরখানের ধরে অবস্থান করছেন।
বর্তমানে বাড়ি ঘর ছাড়া বড় ভাই আব্দুল হেকিম বলেন, আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছি। আমার রেকর্ডিয় জমি চাষাবাদ করতে পারছি না। ঘরে রক্ষিত যাবতীয় আসবাবপত্র ও মালামাল সব নিয়ে গেছে। পুকুরে চাষাবাদ করা মাছ সহোদর চার ভাই বিক্রি করে টাকা নিচ্ছে। গভীর নলকূপটিও বন্ধ রয়েছে। গত দুটি ঈদ বাড়িতে করতে পারিনি। এ ঈদটিও বাড়িতে করতে পারবো না। আমি নিজ বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে চাই। গ্রাম্য সালিশে কয়েকবার বিচার হয়েছে। বিচারকদের রায় সহোদর ভাইয়েরা মানতে রাজী না। এ ঘটনায় আমি তাহিরপুর থানাতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ফলাফল পাইনি।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, ব্রাহ্মণ গ্রামের আব্দুল হেকিমের ঘটনাটি আমরা কয়েকবার এলাকার সালিসকারীরা বসে নিস্পত্তির রায় দিয়েছি। বৈঠক থেকে উঠে গিয়ে পরে আর তার সহোদর ভাইয়েরা রায় মানে না। বর্তমানে আব্দুল হেকিম নিজ বাড়ি ছেড়ে শ্বশুর বাড়িকে আশ্রয় নিয়েছেন।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সমাধানে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট প্রয়োজন হবে। আব্দুল হেকিমকে তার বসত ঘরে ফেরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন