বেশি দাম, ওজনে জালিয়াতি ও যত্রতত্র বিক্রি

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১১

এলপিজিতে অরাজকতা

সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু জেলায় কোথাও ১ হাজার ৬৫০, আবার কোথাও ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ ও বেশি দামে কেনার অজুহাত দেখালেও অনেক ক্ষেত্রে ক্রয়ের মেমো বা ভাউচার দেখাতে পারছেন না। শুধু বাড়তি দাম নয়, এলপিজি বিক্রির ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। পানের দোকান, ফার্মেসি ও মুদির দোকানেও এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সিলিন্ডারে ওজন বাড়াতে পানি ও বালি দেওয়ার মতো প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ শুনা যাচ্ছে। 

 


এমন পরিস্থিতিতে সরকারি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা, অবৈধ বিক্রি বন্ধ, সঠিক ওজন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করছে প্রশাসন— এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের নিয়মিত আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। 

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ আছে কি?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্যবসায়ী বেশি দাম নিলে ভোক্তা প্রতিকার চাইতে পারেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের বেশি দামে গ্যাস কিনেছেন। পরিবহন ও দোকান খরচও আছে। এসব কারণে কি বেশি দাম নেওয়া বৈধ?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: পরিবহন বা ব্যবস্থাপনা খরচের অজুহাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। কোম্পানি ব্যবসায়ীদের যে মুনাফার মার্জিন দেয়, তার মধ্যেই পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। বাসায় গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা পরিবহন বা ক্যারিং চার্জ নেওয়া যেতে পারে, তবে সেটি গ্রাহককে আগে জানাতে হবে। ব্যবসায়ী বেশি দামে গ্যাস কিনেছেন দাবি করলে অবশ্যই ক্রয়ের মেমো দেখাতে হবে। কিন্তু সুনামগঞ্জে অনেক ভাসমান বিক্রেতা সরাসরি কোম্পানি থেকে গ্যাস না কিনে অন্য দোকান বা ব্যক্তির কাছ থেকে কিনছেন। ফলে বাড়তি দামে কেনার দাবি করলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো মেমো বা প্রমাণক পাওয়া যাচ্ছে না।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অনেক ক্রেতা অভিযোগ করছেন, গ্যাস কিনতে গিয়ে বিল বা মেমো চাইলে তা দেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা কী করবেন?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: প্রত্যেক ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ভোক্তাকে বিল বা মেমো দিতে বাধ্য। মেমো না দেওয়াও অপরাধ। কোনো ব্যবসায়ী মেমো দিতে না চাইলে ভোক্তাকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিংসহ অন্যান্য প্রমাণ রাখা যেতে পারে। কারণ অভিযোগের প্রতিকার পেতে ভোক্তাকেই প্রমাণ দিতে হবে যে তিনি ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই পণ্য কিনেছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জে পানের দোকান, ফার্মেসি ও মুদির দোকানেও এলপিজি বিক্রির কথা বলেছেন। বিষয়টি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
আমিরুল ইসলাম মাসুদ: সুনামগঞ্জে এলপিজি বিক্রির ব্যবস্থাপনা অনেকটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। পানের দোকান, ফার্মেসি, মুদির দোকানেও গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। এটি একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে মূল্য নিয়ন্ত্রণও কঠিন করে তুলছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই এলপিজি বিক্রি হওয়া উচিত। তাহলেই নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তার কাছে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: এসব অনিয়ম বন্ধে আপনাদের অভিযান বা তদারকি কীভাবে চলছে?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যারা এলপিজি বিক্রি করছেন, তাদের কাগজপত্র আছে কি না, নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করছেন কি না—এসব বিষয় দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে জরিমানা করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হচ্ছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: আপনি বলেছেন, এলপিজি সিলিন্ডারে পানি ও বালি দেওয়ার ঘটনাও পেয়েছেন। বিষয়টি কীভাবে ঘটছে?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: বিভিন্ন জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডারের ওজন বাড়াতে পানি ও বালি দেওয়ার ঘটনা পাওয়া গেছে। কোথাও দুই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত পানি পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে আমরা কয়েকটি দোকান সিলগালা করেছি। ভোক্তাদের সিলিন্ডারের ওজনের বিষয়টিও দেখতে হবে। সিলিন্ডারের গায়ে খালি বোতলের ওজন উল্লেখ থাকে। সেটি দেখে এবং ওজন করে নিলে কম গ্যাস দেওয়ার প্রতারণা থেকে ভোক্তা অনেকটাই বাঁচতে পারেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার নিয়েও তো দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। ভোক্তারা কীভাবে বুঝবেন?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: একটি সিলিন্ডারের প্রথম মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর। এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর সেটি পরীক্ষা করে ব্যবহারযোগ্য হলে নবায়ন করা হয়। ব্যবহার অনুপযোগী হলে সেটি বাতিল করা হয়। তাই মেয়াদ ও পরীক্ষা—নিরীক্ষার বিষয়টি ভোক্তাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমরা মূলত চারটি বিষয় দেখি—বৈধ ব্যবসায়ী এলপিজি বিক্রি করছেন কি না, নির্ধারিত মূল্যের বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে কি না এবং সিলিন্ডারটি নিরাপদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কি না।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তাহলে সুনামগঞ্জে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ ও যত্রতত্র বিক্রি বন্ধে সামনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জনবল সংকট রয়েছে। সুনামগঞ্জে বর্তমানে একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এরপরও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোক্তারা এবং সাংবাদিকরা সচেতনভাবে সহযোগিতা করলে মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ অনিয়ম বন্ধে আরও কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার