ঈদের দিনও কেটেছে ঘর মেরামত করে, খোলা  আকাশের নিচে

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৫০

কারো ঘরে চাল নেই, কারো আবার ঘর—ই নেই। কেউ বসে আছেন খোলা আকাশের নিচে, কেউ গোছাচ্ছেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র। কারো গায়েই নতুন জামা নেই। এমনই দৃশ্যপটে কেটেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঈদের দিন। এই দিনে ঘরে ঘরে আনন্দ থাকার কথা থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর চোখেমুখে ছিলো শঙ্কা, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। ঈদের দিনে বেড়াতে যাওয়ার পরিবর্তে এসব পরিবারের বৃদ্ধ, যুবক, কিশোর, কিশোরী সবাই মিলে ঘর গোছানোর কাজ করেছেন। মলিন মুখে ঈদের নামাজ আদায় করে বাড়ির জ্যেষ্ঠ পুরুষেরা লেগেছেন ঘর মেরামতের কাজে।
ঈদের দিন দুপুর ১২টায় চন্দ্রপুর কোনারবাড়িতে গিয়ে দেখা যায় একটি পাড়াতেই প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ভাঙা। এরমধ্যে অধিকাংশ ঘরের কোনো অস্তিত্বই নেই। ঈদের জামাত আদায় করে ঘরের চাল মেরামতের কাজে লেগে পড়েন গৃহকর্তা তাইদুল হক। মাছের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন এই মাছ কারবারি। ৩১ মার্চ ভয়াল কালবৈশাখীতে উড়ে গিয়েছে তার ঘরের সকল টিন। টানাহেঁচড়া বা ধারদেনা করে টিন কিনে এনেছেন তিনি। ঘরে বসার মতো কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে ঈদের দিনও ঘরে কাজ করাচ্ছেন। তাই তার বাড়িতে ঈদের কোনো আমেজ পরিলক্ষিত হয়নি। 
রায়পুরের পাটনী বাড়িতে মতি দাস একজন শুটকি ব্যবসায়ী। তিনিও ঈদের দিন ঘরমিস্ত্রি ধরে ঘর নির্মাণ করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, কার জন্য অপেক্ষা করবো। আমার কাজ আমাকেই করতে হবে। 
উপজেলার পশ্চিম পাগলা, জয়কলস ও দরগাপাশা ইউনিয়নের প্রায় ৫শ’ পরিবারের ঈদ এমন করেই কেটেছে। কেউ কেউ আশ্রয়ের জায়গা না পেয়ে তৈরি করেছেন ‘ছাফ্টা’ ঘর (একচালা অস্থায়ী ঘর বিশেষ), কেউ আবার থ্রি—পল দিয়ে তৈরি করেছেন উরা। যা দেখতে অনেকটা তাবুর মতো। এমন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা। এ অবস্থায় ঈদ কিংবা পহেলা বৈশাখের কথা চিন্তাও করতে পারেন না এসব এলাকার মানুষেরা।
রায়পুর কাজিবাড়ির বাসিন্দা, পাগলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য তুয়েল আহমদ ও  চন্দ্রপুর কোনারবাড়ির জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের মনে কোনো আনন্দ নেই। সবারই মনমরা অবস্থা। ঘর, পোশাক পরিচ্ছেদ যাদের নেই তাদের আবার কিসের ঈদ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রায় ১৫ দিন হতে চললো। সরকারিভাবে কিছু সহযোগিতা অনেকেই পেয়েছেন। আরো বেশি সহায়তা বাড়ানো দরকার।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। তবু আমরা আরও কিছু করার চেষ্টা করছি। আশা করছি আগামী ১০ দিনের মধ্যে ভালো কিছু করতে পারবো। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমরা খুবই আন্তরিক।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার