প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৪ ০৬:৩৬
তাহিরপুরে শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও বর্ধিত গুরমা হাওরে পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকগণ কেউ শ্রমিক দিয়ে ধান কাটছেন, কেউ কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটছেন। আবার কৃষকদের ধানের খলাতে দেখা গেছে কেউ ধান মারাই করছেন, কেউ ধান শুকাচ্ছে, কেউ কেউ গরুর খাবারের জন্য খর শুকাচ্ছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের বাবা মায়ের সাথে ধান শুকানো ও উঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে ১৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর এবং নন হাওরে ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ করা হয়েছে।
উপজেলার মাটিয়ান হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের কৃষক মিলন মিয়া জানান, হাওরে ভাল ফলন এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গ্রামের কৃষাণ কৃষানীরা আনন্দের সহিত ধান কাটা মারা ও শুকানোর কাজ করছেন।
একই হাওরের কৃষক হাফিজ উদ্দিন জানান, হাওরের ফসল সার্বিকভাবে ভালো হয়েছে। তবে আগাম জাতের কিছু জমিতে চিটার পরিমাণ বেশী হয়েছে। তিনি আরো জানান, হাওরের নীচু অংশের জমিতে পানি থাকায় সেখানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার যাচ্ছে না। নীচু জমির ধান কাটতে হলে ধান কাটার শ্রমিকের প্রয়োজন পড়বে। সে লক্ষ্যে হাওরের ধানকাটার শ্রমিক সংকট মেটাতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন কাজ ও বড়ছড়া,চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনের কয়লা চুনাপাথর পরিবহনের কাজ বন্ধ রাখার জন্য তিনি প্রশাসনের নিকট দাবী জানান।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান—উদ—দৌলা বলেন, তাহিরপুর উপজেলার শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও বর্ধিত গুরমা হাওরের কৃষকরা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এবছর খুবই ভাল ফলন হয়েছে।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, জেলার বৃহৎ বোর ফসলি ধানের হাওরগুলো পড়েছে তাহিরপুর উপজেলাতে। হাওরে ধানকাটা শ্রমিক সংকট দূরীকরণে উপজেলার যাদুকাটা নদী বালু মহালে বালু উত্তোলন কাজ অপরদিকে বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনের কয়লা চুনাপাথর পরিবহনের কাজ পহেলা বৈশাখের শুরু থেকে পরবর্তী ১৫ দিন প্রশাসন কর্তৃক বন্ধ রাখা হতো। এতে করে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক হাওরে ধান কাটার কাজে এসে যোগ দেয়। হাওরের কৃষকদের ধান উঠানোর স্বার্থে এবারও নদী থেকে বালু উত্তোলন ও কয়লা চুনাপাথর পরিবহন কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের নিকট তিনি দাবী জানান।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, বৈশাখ মাসের ১৫ দিন যাদুকাটা নদী বালুমহাল, বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনের কয়লা চুনাপাথর পরিবহনের কাজ বন্ধ রাখা হয়। এবারও সে প্রথা চালু রাখার জন্য তিনি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অনুরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন