বাবার সাথে মাছ ধরতে  গিয়ে ছেলে নিখোঁজ

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৩ ০৮:৪৫

শান্তিগঞ্জে বাবার সাথে মাছ ধরতে এসে বজ্রপাতের সময় পানিতে পড়ে মোতালিব হোসেন (২৪) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ মোতালিব উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের পাইকাপন পুবেরবাড়ির নাছির মিয়ার ছেলে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় একই ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের উত্তরে ভাই-বোনের দাইড়ে এই ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন জাল দিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মোতালিব হোসেনকে খুঁজে পাননি। পরে সুনামগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুঁজি করে। নিখোঁজ মোতালিবকে উদ্ধার করতে না পেরে সন্ধ্যা ৭টায় তাদের উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করেন ডুবুরিরা।
নিখোঁজ মোতালিবের বাবা নাছির মিয়া বলেন, আমি একজন নিম্ন আয়ের মৎস্যজীবী। দুই ছেলে মোতালিব হোসেন (২৪) ও মোজাম্মিল হোসেন (১৩) কে নিয়ে প্রতিদিনের মতো রবিবারেও বর্শি পেতে মাছ ধরতে বেরিয়েছিলাম। ফজরের আজানের আগে বেরিয়েছি। সকাল ৯টায় ভাই-বোনের দাইড়ে এসে পৌঁছেছি। বর্শি তুলতে তুলতে বেলা ১১টা বেজে যায়। প্রায় ৩কেজির মতো মাছ ধরেছি। মোতালিব বললো, ‘বাবা- আজ চলে যাই, বজ্রপাত হচ্ছে। কাল আবার আসবো।’ এই বলে নৌকা বাইতে থাকে। এমন সময় প্রচ- শব্দ করে বজ্রপাত হয়। সাথে সাথে চিৎকার করে পানিতে পরে যায় মোতালিব। আমিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ছোট ছেলেটা নৌকার উপর মাথা নিচু করে বসে ছিল। কিছুই বুঝতে পারিনি। শুধু আগুনে পুড়লে বা বিদ্যুতে লাগলে যেমন শব্দ হয় তেমন একটি শব্দ আমি বুঝতে পেরেছি। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরতেই দেখি ছেলের মাথায় থাকা বেতের ছাতা পানিতে ভাসছে। ভাবলাম আমার ছেলে। যখন হাত দিয়ে তুললাম দেখি আমার ছেলে নাই। ছাতাটাও পুড়ে গেছে। এরপর থেকে আমার কলিজার টুকরা মোতালিব নিখোঁজ। 
প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রহমান জামী বলেন, এমন জোরে বজ্রপাত হয়েছে, মনে হয়েছে আমাদের ঘরের কাছাকাছি কোথাও বজ্রপাত হয়েছে। পরে শুনি বাড়ি থেকে প্রায় ২শ’ মিটার দূরে চিৎকার-চেঁচামেচি হচ্ছে। দৌঁড়ে গিয়ে দেখি নাছির মিয়া নৌকা বেয়ে পাড়ে আসছে। কান্নাকাটি করে তার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আমাদের বলেন। স্থানীয় অনেকেই তখন জাল দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন কিন্তু পাননি। পরে ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারাও প্রায় ৫ ঘন্টা খোঁজাখুঁজি করেন। মোতালিবকে না পেয়ে সন্ধ্যা ৭টায় তারা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করেন। 
ডুবুরি লিডার কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক আমরা ঘটনাস্থলে এসে তার বাবাকে নিয়ে ২টার দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করি। উদ্ধার কার্যক্রমে ডুবুরি নবীর উদ্দিন, জুম্মন আহমেদ ও রেদুয়ান আলমসহ আমরা চারজন অংশগ্রহণ করি। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা ছিলো, কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তিকে খোঁজে পাইনি। নদীর পানিতে ¯্রােত ছিলো। আমাদের ধারণা, ¯্রােতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিটির দেহ অন্য কোথাও চলে যেতে পারে।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার